খবর লাইভ : গত ৪ ডিসেম্বর সকালে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে সাসপেন্ড করার পরই তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন। একটি সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন বলেন, ফিরহাদ হাকিম সম্প্রতি এক মুসলিম-সমাজিক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছিলেন যে, মুসলিম হয়ে যারা জন্মগ্রহণ করেছে তারা সৌভাগ্যবান, যারা অমুসলিম তারা দুর্ভাগা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই দৃষ্টিভঙ্গি কি ধর্মনিরপেক্ষ বা সেক্যুলার হিসেবে গ্রহণযোগ্য?
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি বলেই দিক আরএসএস মার্কা মুখ্যমন্ত্রী হোক বা সরাসরি বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী, আমি উভয়কেই স্বাগত জানাব। তাঁর মতে, এটি মিথ্যাচার ও দ্বিমুখী মানসিকতার প্রতিফলন।
তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির ঘটনা সাপেক্ষে, কিছু দিন আগে হুমায়ুন কবীরকে শোকজ নোটিশ দিয়েছিল। তিনি শোকজের জবাব দিয়েছিলেন। তবে, তাদের অভিযোগ ছিল, হুমায়ুন বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ গড়বে, যা সাম্প্রদায়িক রূপ ধরে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফিরহাদ হাকিম জানিয়ে দিয়েছেন, দল ধর্মীয় বিভাজন বা সাম্প্রদায়িক উসকানিকে সমর্থন করতে পারে না। সেই কারণেই হুমায়ুনকে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
হুমায়ুন কবীর এবার দৃঢ় ভাষায় ফিরহাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, যারা মিথ্যাচার ও দ্বিমুখী রাজনীতি করে তাদের বিরুদ্ধে আমি কথা বলেছি। আমার দল নয়, সম্প্রদায় আগে।
এছাড়া, তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে, শোকজ-নোটিশের পরেও দলের শৃঙ্খলা কমিটি তার জবাব থেকে দোষ খুঁজে পাননি। তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
এই ঘটনা পরপরই দেখা যাচ্ছে, হুমায়ুন কবীর তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন কৌশল গড়ার পথে। অনেকে মনে করছেন, তিনি হয়তো নিজের শক্তি নিয়ে এগুতে পারবেন, দলীয় শৃঙ্খলা থেকে বেরিয়ে নতুন কোনও পথ বেছে নিতে পারবেন।
ফিরহাদ হাকিম এবং তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট করেছেন, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি দলে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মতভেদের মধ্যে এই ঘটনা বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবেশকেও প্রভাবিত করতে পারে।




