খবর লাইভ : কলকাতার গিরিশ পার্কে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম সৌম্যদিত্য কুণ্ডু। মাত্র ২১ বছরের তরতাজা এই যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে এখনই তৈরি হয়েছে রহস্যের ঘনঘটা। তিনি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি একটি সুপরিকল্পিত খুনের শিকার, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গিরিশ পার্ক থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশনের তিন নম্বর গেটের ঠিক পাশে অবস্থিত একটি বহুদিনের পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে সৌম্যদিত্যের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। বাড়িটি কুণ্ডু পরিবারেরই পৈত্রিক সম্পত্তি বলে জানা গিয়েছে। সকালে স্থানীয়রা বাড়িটির ভিতর অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দরজা ভেঙে দেহটি উদ্ধার করে।
জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে সৌম্যদিত্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন তিনি হয়তো কোনও বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছেন বা ব্যক্তিগত কাজে বাইরে আছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর বাকরুদ্ধ হয়ে যান পরিবার-পরিজন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে সৌম্যদিত্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন তিনি হয়তো কোনও বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছেন বা ব্যক্তিগত কাজে বাইরে আছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর বাকরুদ্ধ হয়ে যান পরিবার-পরিজন।
আরও রহস্য যোগ করেছে মৃত যুবকের ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ট্যাব। সেখানে বড় অক্ষরে লেখা ছিল লস্ট। এই শব্দটির পেছনে কোনও ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে কিনা তা নিয়ে তদন্তকারীরা ভাবতে শুরু করেছেন। এটি কি আত্মহত্যার নোট? নাকি কোনও গোপন বার্তা? নাকি খুনের সঙ্গে জড়িত কোনও ক্লু? এ নিয়ে অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এখনও। পরিবারের পক্ষ থেকেও এই শব্দের অর্থ বা প্রেক্ষাপট নিয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সৌম্যদিত্য বিদেশে পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। প্রতিভাবান ও সম্ভাবনাময় এক যুবকের এমন অকাল মৃত্যু পরিবার, বন্ধুবান্ধবদের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও শোকস্তব্ধ করেছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। কল ডিটেল, সিসিটিভি ফুটেজ, এবং উদ্ধার হওয়া ট্যাবের ডেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুমান, এটি আত্মহত্যা হতে পারে, তবে খুনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও গভীর হচ্ছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগ ও প্রশ্নের পরিমাণ। পুলিশের তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর গোটা এলাকার।



