Special News Special Reports State

নবান্ন অভিযান ঘিরে উত্তাল রাজপথ, ব্যারিকেডের সামনে সাধু-সন্তদের শিঙা বাজিয়ে প্রতিবাদ

0
(0)

খবর লাইভ : তিলোত্তমার মৃত্যুর এক বছর পরেও ন্যায়বিচারের দাবি নিয়ে আন্দোলনে উত্তাল শহর। শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতি, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ব্যারিকেডের সামনে সাধুদের শিঙা থেকে অসুস্থ মায়ের কান্না, সব মিলিয়ে এই নবান্ন অভিযান এক অনন্য প্রতিবাদের চিত্র তুলে ধরল।

পুলিশের ব্যারিকেড, পথে পথে বাধা, শ্লোগান, প্রতিবাদ এবং উত্তেজনার আবহে পরিস্থিতি এক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে বসে। এই কর্মসূচিতে অংশ নিলেন চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিনিধি, সাধু-সন্ত সমাজের একাংশ থেকে সাধারণ মানুষও।

তিলোত্তমার মা-বাবার আহ্বানে সাড়া

নবান্ন অভিযানে সকলকে যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন তিলোত্তমার মা-বাবা। তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়ে পথে নামেন চাকরিপ্রার্থী আন্দোলনের অন্যতম মুখ চিন্ময় বাবু। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এই দুটি স্তম্ভ ধসে পড়েছে। এটাই তো সমাজের ভিত্তি। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জন্য আমরা চাকরি হারিয়েছি। তিলোত্তমাও সেই দুর্নীতিরই শিকার।

ব্যারিকেডের সামনে সাধু-সন্তদের বিক্ষোভ

প্রতিবাদের অন্য এক মাত্রা যোগ করে, সাধু-সন্তদের একাংশ নেমে পড়েন ব্যারিকেডের সামনে। তাঁদের কেউ কেউ বসে পড়েন মাটিতে, কেউ শিঙা ফুঁকছেন, আর উঠতে থাকে “হর হর মহাদেব” স্লোগান। পুলিশের সামনে এই আধ্যাত্মিক প্রতিবাদ নজর কাড়ে সকলের।

অসুস্থ তিলোত্তমার মা, হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্ত

এদিন আন্দোলনের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিলোত্তমার মা। জানা গিয়েছে, তাঁর মাথা ঘোরাচ্ছিল, শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। দ্রুত তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে তিনি কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছিলেন। দাবি করেছিলেন, আমার শাঁখা ভেঙে দিয়েছে পুলিশ, আমাকেও মারা হয়েছে।

যদিও ডিসি পোর্ট জানিয়েছেন, তাঁকে মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন, পুলিশ কেউ তাঁকে আঘাত করেনি। বিজেপির কৌস্তভ বাগচি বলেন, কাকিমার শাঁখা ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। আগে ওর মেয়ে  তিলোত্তমাকে মারা হয়েছে, এখন মাকেও মারছে। এটাই পুলিশের আসল চেহারা।

নবান্ন অভিযানে পথে পথে পুলিশি ব্যারিকেড

নবান্ন অভিমুখে যাওয়ার মুখে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। কলকাতা ঢোকার মুখে কোনা রোডে পুলিশের প্রথম বড় বাধা। অ্যাম্বুল্যান্স গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি সব যানবাহনকে থামিয়ে চলছে কড়া তল্লাশি। চারচাকা গাড়ি ও বাস ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।

সাঁতরাগাছিতে ব্যারিকেড টপকে এগোতে গেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি বাহিনী।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *