খবর লাইভ : আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক পড়ুয়া তরুণীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার বর্ষপূর্তিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নবান্ন অভিযানে পথে নেমেছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিজেপিও। তবে সেই কর্মসূচিকে ঘিরে শহরের বুকে ছড়াল উত্তেজনা। পার্ক স্ট্রিট মোড়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে রীতিমতো ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিজেপির অভিযোগ, পুলিশের হাতে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন তাঁদের বিধায়ক ও কর্মীরা।
অবস্থানে বসে প্রতিবাদ বিজেপি নেতৃত্বের
এদিন ডোরিনা ক্রসিংয়ের উদ্দেশে মিছিল করে এগোচ্ছিলেন বিজেপি বিধায়করা। নেতৃত্বে ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, শংকর ঘোষ, অশোক দিন্দা-সহ একাধিক নেতা-কর্মী। তবে পার্ক স্ট্রিট মোড়ে পৌঁছাতেই তাঁদের পথ আটকে দেয় পুলিশ। ব্যারিকেড ঘিরে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি।
পরে ফ্লাইওভারের নিচেই অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্যান্য বিধায়করা। চলতে থাকে স্লোগান, ধিক্কার এবং প্রতিবাদ। রাস্তায় বসেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, পুলিশ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। বিজেপি বিধায়কদের লাঠিপেটা করা হয়েছে। আমাদের ১০০-র বেশি কর্মী আহত। ১৮ জনকে রেলের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
‘যতক্ষণ নির্যাতিতার মা চাইবেন, ততক্ষণ চলবে অবস্থান’ সাফ জানিয়ে দেন বিরোধী দলনেতা।এদিনের অবস্থানের সময় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নির্যাতিতার বাবা-মাকে হেনস্থা করা হয়েছে। তাঁদের পাশে দাঁড়াতে আমরা পথে নেমেছি। যতক্ষণ নির্যাতিতার মা এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে চাইবেন, ততক্ষণ আমরা এখানেই বসে থাকব। তাঁর দাবি, এটা শুধু বিজেপির আন্দোলন নয়, এটা বাংলার মেয়েদের নিরাপত্তার প্রশ্ন। মানুষের প্রশ্ন।
তিনি আরও বলেন, কী করেনি মনোজ ভার্মার পুলিশ? একটাও বিজেপির পতাকা ছিল না, তাও হামলা হয়েছে। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ।
নবান্ন অভিযানে রাজ্য জুড়ে উত্তেজনা
শুধু পার্ক স্ট্রিট নয়, হাওড়া, সাঁতরাগাছি, ডালহৌসি সহ একাধিক এলাকায় বিজেপি কর্মীদের জমায়েত ও পুলিশের বাধার কারণে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। ব্যারিকেড পেরিয়ে নবান্ন পৌঁছতে গেলে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বিজেপি কর্মীদের।
নবান্ন অভিযানের আয়োজন করেছিল একাধিক ছাত্র, যুব ও নাগরিক সংগঠন। আরজি কর-কাণ্ডের এক বছর পূর্তিতে সরকারের বিরুদ্ধে নারীদের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। বিজেপি এদিন সেই আন্দোলনে নিজেদের সরাসরি যুক্ত করে পথে নামে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে এক তরুণী চিকিৎসা পড়ুয়াকে যৌন হেনস্থা ও খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এক বছর কেটে গেলেও দোষীদের কঠোর শাস্তি হয়নি বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। সেই প্রতিবাদেই এই বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এদিনের নবান্ন অভিযান রাজ্যে বিরোধী স্বরকে আরও জোরালো করে তুলেছে। যদিও রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। তবে পরিস্থিতি যে আবারও রাজ্য রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।




