খবর লাইভ : ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার ধারালি গ্রাম। মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে হড়পা বান নামে ওই এলাকায়। প্রবল স্রোতে ভেসে যায় হরশিলের একটি সেনা ছাউনি। ছাউনিতে থাকা ৯ জন ভারতীয় সেনা জওয়ান নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫ জন সাধারণ মানুষ।
নিখোঁজ জওয়ানদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি
ঘটনার খবর পেয়ে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই ভারতীয় সেনার ১৫০ জন জওয়ান ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। নিখোঁজ জওয়ানদের সন্ধানে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বুধবারও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ সেনারা বিপর্যয়ের মধ্যেও উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। এটাই ভারতীয় সেনার প্রকৃত চেতনা।
প্রশাসন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ধারালি গ্রামে আচমকা হড়পা বান নামে। হরশিল সেনা ছাউনিটি ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৪ কিমি দূরে। প্রবল জলের তোড়ে ছাউনির একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে ও ভেসে যায়।
স্থানীয়দের জন্য বিপর্যয় মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। গঙ্গোত্রী যাত্রার পথে ধারালি গ্রামে বহু পুণ্যার্থী আশ্রয় নেন। ফলে সেখানে বহু হোটেল, হোমস্টে ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। হড়পা বানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি আর কে সুধাংশু। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তার জন্য হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। নম্বরগুলি হল ০১৩৭৪-২২২১২৬, ২২২৭২২ এবং ৯৪৫৬৫৫৬৪৩১।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্য সরকার তৎপর হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জরুরি বৈঠকে বসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। আপাতত কেদারনাথ যাত্রা স্থগিত রাখা হয়েছে। হড়পা বানে ক্ষয়ক্ষতিকে গভীরভাবে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সেনা বাহিনী একযোগে কাজ চালাচ্ছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকার্য পরিচালনাকারীরা। নিখোঁজ সেনাদের সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ার প্রার্থনায় এখন গোটা দেশ।




