খবর লাইভ : রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। বিহারে বিশেষ ভোটার তালিকা তদন্ত শুরু হওয়ার পর, একই প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গেও চালুর দাবি তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বাংলার ভোটার তালিকায় প্রায় এক কোটি ভুয়ো ভোটার রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী, মৃত ব্যক্তিরা এবং একাধিকবার নাম তোলা ভোটার।
শুভেন্দু বলেন, বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটার তালিকায় রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে একাধিক মৃত ব্যক্তি ও ডুপ্লিকেট নামও তালিকায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ করছি, বিহারের মতো এখানে এসআইআর চালু করে তালিকা থেকে এইসব অবৈধ নাম বাদ দেওয়া হোক।
এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। শুভেন্দুর অভিযোগ, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই তৃণমূল কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম ঢোকাচ্ছে।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও একই অভিযোগ তুলে বলেন, তৃণমূল ভোটব্যাংক রক্ষায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় ঢোকাচ্ছে। বারাসাত থেকে মধ্যমগ্রাম পর্যন্ত জাল ভোটার কার্ড ইস্যু হয়েছে, যার পেছনে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিএলও-দের ভয় দেখিয়ে ভুয়ো নাম রাখা হচ্ছে।
তবে এইসব অভিযোগ এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে খণ্ডন বা স্বীকৃতি পায়নি। অন্যদিকে, বিহারে এসআইআর ইস্যুতে কেন্দ্রীয় এনডিএ সরকার ও বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর দাবি, ভোট চুরির প্রচুর প্রমাণ রয়েছে আমার কাছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে ভোটে কারচুপি করছে। এর জবাবে কমিশন বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এইসব অভিযোগ বিভ্রান্তিকর এবং ভিত্তিহীন। ভোটারদের অনুরোধ করছি, গুজবে কান দেবেন না।
রাজ্য রাজনীতিতে শুভেন্দুর এই দাবি একদিকে যেমন নির্বাচনপূর্ব উত্তাপ বাড়াচ্ছে, তেমনই ভোটার তালিকার নিরপেক্ষতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গেও বিহারের মতো কোনও বিশেষ পদক্ষেপ নেয় কিনা।




