খবর লাইভ : মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছর পরে আদালতের রায়ে বেকসুর খালাস পাওয়ার পর, এবার সরব হলেন বিজেপি নেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর। তাঁর অভিযোগ, ২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ কোনও বিচ্ছিন্ন জঙ্গি হামলা ছিল না বরং তা ছিল কংগ্রেসের সাজানো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রজ্ঞা দাবি করেছেন, তদন্ত চলাকালীন হেফাজতে থাকাকালীন তাঁকে জোর করে যোগী আদিত্যনাথ এবং নরেন্দ্র মোদির নাম নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনও মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেননি বলেই, তাঁর উপর ভয়ঙ্কর নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
ভোপালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রজ্ঞা বলেন, আজ আদালতের রায় কংগ্রেসের মুখে বড়ো থাপ্পড়। যারা ‘গেরুয়া সন্ত্রাস’ বলে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা আসলে দেশবিরোধী শক্তি। আজ তারা মুখ লুকোচ্ছে।
প্রজ্ঞার অভিযোগ, কংগ্রেস গেরুয়া শিবিরকে টার্গেট করে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের তোষণে লিপ্ত হয়ে হিন্দুদের উপর মিথ্যা মামলা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ‘হিন্দুত্ব সন্ত্রাস’ এবং ‘গেরুয়া সন্ত্রাস’ বলে প্রচার চালিয়ে গোটা দেশকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা হয়েছিল। মালেগাঁও বিস্ফোরণও সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ ছিল।
২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার মুসলিম অধ্যুষিত মালেগাঁওয়ের ভিকু চকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৬ জন প্রাণ হারান এবং আহত হন প্রায় ১০০ জন। এই ঘটনায় প্রজ্ঞা সহ একাধিক হিন্দু সংগঠনের নেতা-নেত্রীদের নাম উঠে আসে। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে মুম্বইয়ের বিশেষ আদালত বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাকে বেকসুর খালাস করে দেয়।
বিচার শেষের পর প্রজ্ঞা মন্তব্য করেন, আমাকে তদন্তকারীরা জোর করে বিজেপির বড় বড় নেতার নাম বলাতে চেয়েছিল। আমি না বলায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত হতে হয়েছে। কিন্তু আমি সত্যের পথ ছাড়িনি।
তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। ইতিমধ্যেই বিরোধী দলগুলি প্রজ্ঞার বক্তব্যকে ‘চালাকি’ এবং ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে দাবি করেছে, যদিও প্রজ্ঞা নিজের অবস্থানে অনড়। তিনি বলেন, এটি কেবল আমার ব্যক্তিগত মুক্তি নয়, বরং ভারতের হিন্দু সমাজের উপর আরোপিত মিথ্যারও বহিঃপ্রকাশ।
আপাতত, আদালতের এই রায়ের পরে সারা দেশজুড়ে মালেগাঁও মামলা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।




