Special News Special Reports State

সিঙ্গুর, ধনিয়াখালি এলাকায় বেআইনি মাটির কারবার বন্ধে বড় সিদ্ধান্ত বিজেপির

0
(0)

খবর লাইভ : বেআইনি মাটির গাড়িতে একাধিক পথযাত্রীর মৃত্যু হলেও হেলদোল নেই পুলিশের। ফলে রাতের অন্ধকারে প্রায় শতাধিক বেআইনি মাটির গাড়ির দাপটে প্রাণ ওষ্ঠাগত হুগলির ধনিয়াখালির দশঘরা ও পারাম্বুয়া এলাকার লোকজনের। ফের একবার ধনিয়াখালি থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানানো শুরু করেছে ও এলাকার বাসিন্দারা। পুলিশ অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের কাছে কেউ অভিযোগ না জানলে তারা কোনও পদক্ষেপই গ্রহণ করতে পারবে না। দশঘরা এলাকার লোকজন অবশ্য বেআইনি মাটির কারবার বন্ধ করতে কলকাতা হাইকোর্টের বেশ কয়েকজন আইনজির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন। বিজেপির পক্ষ থেকেও বিষয়টি আদালতে উত্থাপন করা হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
বেআইনি মাটি কাটার কাজ বন্ধ করার জন্য বারবার প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর যে নির্দেশ মানা হচ্ছে না তা দশঘরা, পারাম্বুয়া এলাকায় এলেই বোঝা যাবে। রাতের অন্ধকারে মাটি মাফিয়ারা মাটি কেটে অন্যত্র পাচার করছে। রাস্তায় মাটি পড়ে থাকার ফলে একদিকে যেমন রাস্তা নষ্ট হচ্ছে তেমনি দুর্ঘটনাও ঘটছে। দুর্ঘটনায় কিছুদিন আগেই দুজনের মৃত্যু হলেও পুলিশ অবশ্য নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে এলাকার লোকজনের দাবি। এলাকার লোকের ছাগল, মুরগি চুরি করছে মাটির কারবারে যুক্ত লোকজন। প্রতিবাদ করলে তাদের মারধোর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এলাকার লোকজন অবশ্য পুলিশের কাছে কোনও অভিযোগ এখনো জানাননি।
কেন অভিযোগ করেননি, এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দশঘরা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘পুলিশের মদতেই তো এই বেআইনি কাজ করছে মাটি মাফিয়ারা। অভিযোগ জানালে অত্যাচার আরো বাড়বে। তাই ভয়ে কেউ থানায় অভিযোগ না করলেও বিভিন্ন জায়গায় অবশ্য চিঠি দেওয়া শুরু হয়েছে। নবান্নেও মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এভাবেই বেআইনি কাজ চলার ফলে একদিকে যেমন রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে তেমনই দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন তিনি যেন অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।’
ধনিয়াখালি থানার ওসি কৌশিক দত্ত বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে বিষয়টি অবশ্যই দেখবো।’
নবান্নের এক কর্তা বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। এই ধরনের বেআইনি কাজ বরদাস্ত করা হবে না।’
অন্যদিকে হুগলির চণ্ডীতলা থানায় এলাকার কুমিরমোড়া এলাকায় নরেশ আগরওয়াল নামে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে মাটি কিনে ভরাটের অভিযোগ উঠেছে।ওই এলাকার স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সরকারকে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বেআইনিভাবে মাটি কিনে ভরাট করছেন ওই ব্যবসায়ী। নরেশ বলেন, ‘যাদের কাছ থেকে মাটি কেনা হচ্ছে তাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমি অবশ্য কোনও রয়্যালটি দিইনি।’ ওই ব্যবসায়ীকে ফোন করা হলে পরে অনাথ ঘোষ এক ব্যক্তি নিজেকে নরেশের আত্মীয় বলে পরিচয় দিয়ে অভিযোগটি জানার চেষ্টা করেন। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি চণ্ডীতলা ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত ও পরিবহন কর্মাধ্যক্ষ অনাথ ঘোষ। পরে তাঁকে ফোন করা হলে অনাথ নিজেকে নরেশের বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘যারা মাটি বিক্রি করছে তারা নিয়ম মেনেই এই কাজ করছে।’
সূত্রের খবর, চণ্ডীতলা এলাকার কয়েকজন তৃণমূল নেতার মদতেই ওই এলাকায় বেআইনিভাবে মাটি কাটার কাজ চলছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, ‘চণ্ডীতলা, সিঙ্গুর ও ধনিয়াখালি এলাকায় বেআইনি মাটি কাটা নিয়ে আমরা হাই কোর্টে মামলা করব। পুলিশ জনগণকে পাত্তা না দিয়ে এখন মাটি মাফিয়াদের ত্রাতার ভূমিকা পালন করছে।’
হুগলি জেলা সিপিএমের পক্ষ থেকেও বেআইনি মাটি কাটা বন্ধ করার জন্য বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *