খবর লাইভ : সংশোধিত ওয়াকফ আইন ঘিরে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক ঘটনার প্রতিবাদে এবার রাজপথে বিজেপি। বুধবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ১১ জন ‘আক্রান্ত’ বাসিন্দাকে নিয়ে পৌঁছে যান ভবানী ভবনে, রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে। সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, তাপস রায় এবং অর্জুন সিং।
সংশোধিত ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমা। সুতি, শমসেরগঞ্জ, ধুলিয়ান—এই সমস্ত এলাকায় অশান্তি চরমে পৌঁছয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিএসএফ যৌথ টহল শুরু করে। এখনও শমসেরগঞ্জ ব্যতীত অধিকাংশ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হয়েছে।
রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার শনিবার নিজে মুর্শিদাবাদে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তবে বিজেপির অভিযোগ, তিনি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি। তাদের দাবি, এই ১১ জন সেই তালিকায় পড়েন—যারা আক্রান্ত ও ঘরছাড়া।
বুধবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে সুকান্তরা জানান, ১১ জন ক্ষতিগ্রস্তকে নিয়ে তারা ভবানী ভবনে যাচ্ছেন ডিজির সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু সেখানে তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এই অবস্থায় বিজেপি নেতারা সদর দফতরের বাইরে ধর্ণায় বসে পড়েন।
একই সময়ে ডিজি রাজীব কুমার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নবান্নে বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। পরে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়, চারজনের প্রতিনিধি দলকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু সুকান্তরা তাতে রাজি হননি। তাদের স্পষ্ট দাবি, ঘরছাড়াদের প্রত্যেকেরই ডিজির সঙ্গে দেখা করার অধিকার আছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে রাজ্য পুলিশের তরফে ১১ জন আক্রান্ত এবং চার বিজেপি নেতাকেই ভবানী ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশ একটি ৯ সদস্যের SIT গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার এক অফিসার। কিন্তু এখানেই থেমে নেই বিষয়টি। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা -র হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার দাবি তুলেছে বিজেপির একাংশ। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও জাতীয় মহিলা কমিশন ইতিমধ্যেই ঘটনার উপর নজর রেখেছে বলে সূত্রের খবর।



