খবর লাইভ : ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলছে উত্তরাখণ্ডের নৈনিতালের জঙ্গল এলাকা। আগুনের তীব্রতা এতটাই যে নৈনিতালে দাবানল ভয়াবহ আকার নিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনা নামানো হয়েছে। বিখ্যাত নৈনি লেকে নৌকাবিহার বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। শহরের একেবারে কান ঘেঁষা হাই কোর্ট কলোনির কাছে প্রথমে দাবানল জ্বলে ওঠে। ধীরে ধীরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১টি নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩৩.৩৪ হেক্টর বনভূমি ছাই হয়ে গিয়েছে।ধীরে ধীরে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়েছে লোকালয়েও। শুক্রবার উত্তরাখণ্ড হাই কোর্ট সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত জঙ্গলের আগুন পৌঁছে গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ শোকজ নোটিশ ধরিয়ে কড়া পদক্ষেপের ‘সুপ্রিম’ হুঁশিয়ারি! কল্যাণকে
গ্রামবাসীরাই জঙ্গলে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। রুদ্রপ্রয়াগ থেকে জঙ্গলে আগুন লাগানোর অভিযোগে তিন জনকে শুক্রবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ।নৈনিতালে দাবানল পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিংহ ধামী। তিনি এলাকার বাসিন্দাদের সাবধানে থাকার অনুরোধ করেছেন। সেই সঙ্গে রাজ্যের সব দফতরকে একত্রিত হয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার রাতে নৈনিতালের জঙ্গলের আগুন উত্তরাখণ্ড হাই কোর্টের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ওই এলাকার বাসিন্দারা আগুনের লেলিহান শিখাও দেখতে পান। এর ফলে এলাকায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। রাতেই ডাকা হয় সেনাবাহিনীকে। বন দফতরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সেনা জওয়ানেরাও আগুন নেভানোর কাজ করেছেন সারা রাত। আগুন শুক্রবার লোকালয়ের এতটাই কাছাকাছি চলে এসেছিল যে, নৈনি হ্রদে বোটিং সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেন কর্তৃপক্ষ। তবে এখনও পর্যন্ত লোকালয়ের কোনও অংশে ক্ষয়ক্ষতির কথা জানা যায়নি।একটি পরিত্যক্ত, পুরনো বাড়ি থেকে আগুন প্রথমে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর তা হু হু করে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। হাইকোর্ট কলোনির কোনও বাড়ির এখনও ক্ষতি না হলেও একেবারে নাকের ডগায় দাবানল জ্বলছে। দি পাইনস এরিয়াতেই রয়েছে সেনাবাহিনীর কিছু এলাকা। আগুন সেখানেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উত্তরাখণ্ড বন দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের জঙ্গল এলাকায় মোট ৫৭৫টি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটিই মনুষ্যসৃষ্ট। এর ফলে বন দফতরের ৬৮৯.৮৯ হেক্টর জমি নষ্ট হয়েছে। রাজ্যের ক্ষতি হয়েছে ১৪ লক্ষ টাকার বেশি।প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে জানা গিয়েছে, দাবানলের কারণে নৈনিতাল-ভাওয়ালি সড়ক ধোঁয়ায় ভরে রয়েছে। খুব ধীরে ধীরে গাড়ি চলাচল করছে। পুলিশ অনেক গাড়িকে ঘুরপথে যেতে অনুরোধ করছে। নৈনিতাল ও ভীমতাল লেক থেকে জল এনে আগুন নেভানোর যুদ্ধকালীন তৎপরতা চলছে।




