খবর লাইভ : সাংবাদিকের জায়গা দখল করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কর্তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মমতা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি হুগলির জাঙ্গিপাড়া রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে তারও তদন্তের কথা বলেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ খবর লাইভের সম্পাদক পীযূষ চক্রবর্তীর গ্রামের বাড়ির বাস্তু দখল করে বেআইনিভাবে ১০ ফুট চওড়া রাস্তা করে জেলা পরিষদের এক ঠিকাদার। প্রায় ১২০ মিটার জায়গা জোর করে বলপূর্বক ভাবে তৈরি করার চেষ্টা করা হয়। ১০০ মিটার মতো রাস্তা করেও ফেলা হয়। অথচ হুগলি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ওই ঠিকাদারের কাছে নির্দেশ গিয়েছিল সাংবাদিক পীযূষ চক্রবর্তী যতটা জায়গা দিতে ইচ্ছুক ঠিক ততটাই যেন করা হয়। তবে ওই ঠিকাদার পাশের গ্রাম সোমনগরের বাসিন্দা তথা এলাকার দুষ্কৃতী দীপু বাগ, দেবব্রত রায় ও পীযূষের গ্রাম কৃষ্ণপুরের বাসিন্দা অনুপ চক্রবর্তী, অরূপ চক্রবর্তী, স্বরূপ চক্রবর্তী, মুক্তিনাথ চক্রবর্তী, মানিক মুখোপাধ্যায় এবং অলোক মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে প্রায় একশো ফুট রাস্তা দশ ফুট চওড়া হিসেবে করে নেন। যে জায়গাটির উপর দিয়ে রাস্তা করা হয়েছে সেটিতে আদালত কোনও কিছু না করার নির্দেশ দিয়েছিল। ঠিকাদার সেই কথা না শুনে খবর লাইভের সম্পাদককে জানিয়েছিলেন, সাত ফুট চওড়া হিসেবেই রাস্তা করা হবে এবং সেই নির্দেশ জেলা পরিষদ তাঁকে দিয়েছে। পরে অবশ্য তিনি বেআইনি কাজ করেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ কোচবিহারের জনসভায় মোদির মুখে সন্দেশখালি প্রসঙ্গ,‘ইন্ডিয়া’ মিথ্যাচার!
আর এই বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে পীযূষ মুখ্যমন্ত্রীর দফতর, রাজ্যপাল, নির্বাচন কমিশন সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের দুর্নীতি নিয়েও তথ্য তুলে দিয়েছেন। যার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বাড়ির ভিটে দখলের ঘটনায় বেশ ক্ষুব্ধ। তিনি সরাসরি প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা বলেছেন।
মমতার পাশাপাশি অভিষেকও সাংবাদিকের জায়গা দখলের ঘটনার নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হল সংবাদমাধ্যম। তাদের উপর আক্রমণ আমরা কোনও ভাবেই মেনে নেব না। পীযূষবাবুকে দলনেত্রী এক সময় তৃণমূলের জেলার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের সঙ্গে দল নেই।’ হুগলি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তাদের অন্ধকারে রেখে এই বেআইনি কাজ করা হয়েছে।
এদিকে রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের আরও বেশ কিছু দুর্নীতি সামনে এসেছে। হিজুলি খেলার মাঠে মাটি ফেলার জন্য একশো দিনের কাজের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে একঝোরা মাটিও পড়েনি ওই খেলার মাঠে। কিন্তু কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীদের। আদিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকায় দুর্নীতির কারণে ভোটের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৃণমূলের একাংশের। এছাড়াও কানাইপুর গ্রামে ন’পুকুর সংস্কারের জন্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা একশো দিনের কাজে দেখানো হয়। সেই টাকা তুলে নেওয়া হয়। তবে ওই পুকুরটি সংস্কার ১০০ দিনের শ্রমিকদের দিয়ে করা হয়নি, এক মাটি কারবারিকে মোটা অংকের টাকায় বিক্রি করা হয় ওই পুকুরের মাটি। ওই মাটি কারবারি পুকুরটি সংস্কারের পাশাপাশি কয়েক লক্ষ টাকা মাটির দরুন দিয়েছিলেন। এভাবে একের পর এক দুর্নীতি দীর্ঘদিন ধরে রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েত করে এলেও কেউ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। যা নিয়ে এলাকাবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও পীযূষের বাড়িতে গিয়ে গালাগালি দেওয়া দীপু নামের ওই দুষ্কৃতী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে সোমনগর হাই স্কুল থেকে প্রতিদিন মিড ডে মিলের খাবার জোর করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে এলাকার লোকজন ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন।
রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েত এখনও বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়া প্রকল্পে সাংবাদিক পীযূষ চক্রবর্তীর বাড়িতে জলের লাইন পর্যন্ত দেয়নি। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




