Special News Special Reports State

ভাইয়ের সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ, বাবুনকে নিয়ে বিস্ফোরক মমতা

0
(0)

খবর লাইভ : নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন বার্তা সামনে আসার পরই এবার বিস্ফোরক মমতা। বললেন, “বড় হলে অনেকের লোভ একটু বেশি বেড়ে যায়। আমাদের পরিবারের ও কোনও মেম্বার বলে আমি মনে করি না। আমার ভাই হিসেবে আর পরিচয় দেবেন না।”

‘পরিবারতন্ত্র’ তিনি মানেন না৷ মানুষই তাঁর ‘পরিবার’, ‘পরিবারকে বাদ দিয়ে যে যাঁর খেলা খেলুক’৷ নিজের ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে ঠিক এইভাবেই তীব্র আক্রমণ ছুঁড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘‘বাবুনের সঙ্গে সব সম্পর্ক আমার শেষ। আমার ভাই হিসাবে কেউ পরিচয় দেবে না।’’
লোকসভা নির্বাচনের টিকিট পাওয়া নিয়ে এবার কোন্দল শুরু হয়েছিল খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘর’ থেকেই৷ হাওড়ায় প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করা নিয়ে জনসমক্ষে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন তিনি৷ বলেছিলেন, ‘‘হাওড়ার মানুষ ওঁকে প্রার্থী হিসাবে মেনে নিচ্ছেন না৷ এই প্রার্থী ঠিক হয়নি৷’ বাবুনকে নিয়ে প্রশ্ন শুনেই মমতা বলেন, “আপনাদের একটা কথা বলি। এটা আমি শুনেছি। আমি যে দিন থেকে পার্টি করি, কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে কাজ করি। আমার পরিবার বলে কিছু নেই, আমার পরিবার মা-মাটি-মানুষের পরিবার।”

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন কমিশনার ‘নিয়োগ প্রক্রিয়া’ নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে মামলা
মমতা আরও বলেন, “আমাদের পরিবারের প্রায় ৩২ জন মেম্বার আছে। আমাদের কেউ কিন্তু এরকম ন। আমি সরাসরি বলছি, বড় হলে কারও কারও লোভ একটু বেশি বেড়ে যায়। পরিবারটাকে বাদ দিয়ে যে যার খেলা খেলুক। আমার পরিবারের ও কোনও মেম্বার বলে আমি মনে করি না।” আরও স্পষ্ট করে মমতা বলেন, “আজ থেকে আমি সব সম্পর্ক শেষ করলাম। শুধু আমি নই, মা-মাটি-মানুষের পরিবারেরও যারা আছে, তাদের সবার সঙ্গে ওর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেল।”
কার্যত বাবুনকে ভাই বলতেই আপত্তি মমতার। তিনি বলেন, “আজ থেকে আমার ভাই হিসেবে ওর পরিচয় দেবেন না। পৃথক নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতেই পারেন। আমার নামটা ব্যবহার করবেন না। সব সম্পর্ক আমি শেষ করে দিয়েছি। কোনও সম্পর্ক নেই। আমাদের দল যাকে প্রার্থী করেছে, তিনিই আমাদের প্রার্থী। প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় অর্জুন পুরস্কার প্রাপ্ত।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যে ভদ্রলোকের নাম আপনারা বলছেন, তার অনেক কাজকর্মই অনেক দিন থেকে আমি পছন্দ করি না। আমি অন্যায় কখনও সহ্য করি না। কিন্তু সবাই তো বাইরে সব বলতে পারে না। অনেক সময় বুক ফাটে তবু মুখ ফোটে না।”এমএলএ-রও টিকিট চাই, এমপি ভোটেও দাঁড়াতে হবে।মমতা বলেন, “যে যেখানে ইচ্ছে যেতে পারে। কিছু লোক আছে, যাদের ভোট এলে কাউন্সিলরেরও টিকিট চাই, এমএলএ-রও টিকিট চাই, এমপি ভোটেও দাঁড়াতে হবে। আমাদের পরিবারের সবাই যদি বলে ভোটে টিকিট চাই, তাহলে তো আমি পরিবারতন্ত্র করে ফেলব। আমি পরিবারতন্ত্র করি না, মানুষতন্ত্র করি। সবাইকে বলব, ওর সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক ছিল ভুলে যান। যে যেখানে খুশি লড়াই করতে পারে। আমি এত লোভী লোকদের পছন্দ করি না। প্রত্যেকটা ইলেকশনে অশান্তি করেছে। ওর পাশে যেন আমাদের পরিবারের নাম না থাকে। “

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *