Special News Special Reports State

তোলাবাজি থেকে মানব পাচার! কে এই বেতাজ বাদশা শেখ শাহজাহান?

0
(0)

খবর লাইভ : উত্তর ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ কর্মাধ্যক্ষ ও সন্দেশখালির ব্লক ১ এর সভাপতি শেখ শাহজাহানেরও যোগ রয়েছে রেশন বন্টন দুর্নীতির সঙ্গে। সেই যোগকে সামনে রেখেই শাহজাহানের বাড়ি হানা দেয় ইডি। কিন্তু নেতার অনুগামীর তাড়া খেয়ে একপ্রকার পালিয়ে প্রাণ বাঁচায় ইডির আধিকারিকরা। কে এই  শাহজাহান? যার দাপটে পিছু হঠল ইডিও। এলাকার এই বেতাজ বাদশাহের উথ্থান ঠিক কবে?

সময়টা বাম আমলের অন্তিমলগ্ন। উত্তর ২৪ পরগনায় বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার দাপুটে ২ নেতা মজিদ মাস্টার ও বাবু মাস্টারের হাত ধরে জন্ম হল শেখ শাহজাহানের। সেই সময় হাওয়ায় ভাসতো শাহজাহানকে নিয়ে নানান কথা। শোনা যেত, সে নাকি বাংলার লোকই নয়। কিন্তু সেই অনুপ্রবেশকারী শাহজাহানই বামফ্রন্ট জমানার শেষ দিকে অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন স্থানীয় বিধায়ক অনন্ত রায়ের। বাম আমলে মূলত সন্দেশখালি এলাকায় তোলাবাজির মুখ্য ভূমিকা ছিল শাহজাহান শেখের। মেছোভেরি থেকে ইটভাটা এমনকি মাটি বেচাকেনাতেও তোলা দিতে হত ওই শাজাহানকে। এলাকায় কোনও ভেড়ি থেকে বিঘা প্রতি তোলা আদায়ের রেট চার্ট তৈরি হত তারই তত্ত্বাবধানে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হল বঙ্গের পালা বদল। বাংলার মসনদে বসল নতুন শাসক তৃণমূল কংগ্রেস। বাম জমানার ছায়া সরল মাথার উপর থেকে। ভিত নড়বড়ে হতেই ২০১৬ সালে তৃণমূলে যোগদান শেখ শাহজাহানের। বসিরহাটের তৎকালীন তৃণমূল সাংসদ হাজী নুরুলের সঙ্গে বাড়ে শাহজাহানের ঘনিষ্ঠতা। সূত্রের খবর, হাজী নুরুলের হাত ধরে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কাছে পৌঁছে যান শাহজাহান। মন্ত্রীর আনুকূল্যে মেলে দলের সাংগঠনিক পদ।

আরও পড়ুনঃ মধ্যপ্রদেশে ‘হোম’ থেকে ২৬ নাবালিকা উধাও, তদন্তে এনসিপিসিআর
প্রতি বিঘায় তোলা তোলার ধরন বদলে গেল শাহজাহানের। শুরু হল শাহজাহান বাহিনীর কাঠা প্রতি তোলা আদায়ের কারবার। নিজের বাহিনী তৈরি করে সরবেরিয়ায় তোলাবাজির বেতাজ বাদশা হয়ে উঠল শাহজাহান শেখ। এমনকি এলাকার কোনও জলকর শাহজাহানের অনুমতি ছাড়া নিলাম হয় না বলেও দাবি এলাকাবাসীর একাংশের। এই নিলাম প্রক্রিয়া পরিচালনা করে এই শাহজাহানের লোকেরাই। ফলে কে কোন জমি, কত দিনের জন্য ইজারা পেল, তাও লেখা থাকে শাহজাহানের লোকজনের কাছেই।
তৃণমূলে যোগদান করার পর থেকেই রমরমিয়ে বাড়ল তার তোলবাজি তা বলাই বাহুল্য।অন্যদিকে বালুর ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়করা ও তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পেতনা। মাছের ভেড়ি থেকে শুরু করে ইঁট ভাটা, এমনকি, বাংলাদেশ থেকে চোরাপথে আসা জামাকাপড়ের কারবারও, এলাকায় সবই চলতে শুরু করল শাহজাহান শেখের অঙ্গুলিহেলনে৷ এমনকি মানব পাচারেও বেশ হাত পাকল শাহজাহানের। শোনা যায়, ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে নুসরত জাহানকে সন্দেশখালিতে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। সংখ্যালঘু ভোট জোগাড় করে নুসরতকে জেতানোর নেপথ্যেও  বড় ভূমিকা ছিল তার। যে কাজের ভালই ইনাম আদায় করেন শাহজাহান। পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূল প্রার্থী করে শেখ শাহজাহানকে। জেলা পরিষদে জিতে কর্মাধ্যক্ষ হন তিনি।

বালু ওরফে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বর্তমানে রেশন বন্টন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত। রয়েছেন শ্রীঘরে। তার দুর্নীতির বহর দেখে চক্ষু চড়কগাছ রাজ্যবাসীর। সেই বালুর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা তথা এলাকার বেতাজ বাদশাহ শাহজাহানের গড়ে ইডি ঢুকতেই মারমুখী জনতা বা বলা ভালো নেতার অনুগামীরা। তবে কি নেতার দেদার দুর্নীতি ঢাকতেই এই ব্যবস্থাপনা।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *