খবর লাইভ : বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব কে ছিলেন? এক ঝটকায় যেমন নবাব সিরাজউদ্দৌলার নাম সকলে বলে থাকেন, তেমনই এই রাজ্যের শেষ জননেতা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামই সকলে বলে থাকেন। শুভেন্দু অধিকারী বা মুকুল রায়কে কেউ কেউ জননেতা বললেও সকলে অবশ্য মানতে নারাজ। হুগলি জেলার ক্ষেত্রে আকবর আলি খন্দকারকেই শেষ জননেতা হিসেবে সকলে বলে থাকেন। তারপর থেকে এই জেলায় সেভাবে কেউ জননেতা হয়ে উঠতে পারেননি। শাসক দলের হয়ে পদ পেয়ে বেশিরভাগ নেতাকেই অবশ্য নিজের আখের গোছাতে দেখা গিয়েছে। তবে ব্যতিক্রমী হিসেবে নিজেকে মেলে ধরছেন খানাকুলের বাসিন্দা শেখ সাকিম। তৃণমূলের নেতা হলেও তিনি যেন সমস্ত রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের কাছেই সাক্ষাৎ জননেতা। কেউ বিপদে পড়লে সবার আগে যদি কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান তিনি হলেন সাকিম। আবার বিরোধী দল করার কারণে তৎকালীন সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর হাতে খুন হওয়া শহিদ তৃণমূল কর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের আর্থিকভাবে সাহায্যের ক্ষেত্রেও খানাকুলের এই যুবনেতার দোসর মেলা ভার।
২০০৮ সাল থেকে ২০১১ সালের মধ্যে পুরশুরা এবং খানাকুল এই দুই বিধানসভা এলাকায় মোট ১৩ জন তৃণমূল কর্মী খুন হয়েছিলেন। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও বৃহস্পতিবার ওই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল তৃণমূল। সেই অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন সাকিম। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, আরামবাগ সাংগঠনিক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রামেন্দু সিংহরায়, বিধায়িকা তথা আরামবাগ সাংগঠনিক তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী করবী মান্না, আরামবাগ সাংগঠনিক তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান স্বপন নন্দী, আরামবাগ সাংগঠনিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন চেয়ারম্যান জয়দেব জানা, পুরশুরা ব্লক তৃণমূলের সভাপতি যশবন্ত ঘোষ সহ জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও পঞ্চায়েতের সদস্য এবং সদস্যরা।
দুঃস্থ এবং সাধারণ মানুষের পাশে থেকে ক্রমেই জননেতা হয়ে উঠলেও এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ সাকিম।
খানাকুল কেন্দ্রের আদি তৃণমূল কর্মী গণেশ দাস বলেন, ‘সাকিম আমাদের বিপদে, আপদে সবসময় পাশে থাকে। টাকা দিয়ে সাহায্য করে। ওর জন্যই তৃণমূল পুরশুরা, খানাকুল এলাকায় হারানো জমি ফিরে পাচ্ছে ধীরে ধীরে।’




