খবর লাইভ : নয়া সংসদ ভবনে হানাদারদের তাণ্ডব! বুধবারের হাড়হিম করা ঘটনায় এবার প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার সঙ্গে বাংলার যোগাযোগ স্পষ্ট। এমনটাই দাবি তদন্তকারী আধিকারিকদের। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বুধবার দুপুরে সংসদে স্মোক ক্র্যাকার ফাটানোর পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন যিনি, তার সঙ্গে বাংলারই একজন সমাজকর্মী তথা কলেজ পড়ুয়ার যোগাযোগ রয়েছে। বুধবার লোকসভায় ভয়াবহ ঘটনা ঘটানোর পর হোয়াটসঅ্যাপে সেই ঘটনার ভিডিয়ো ললিত ঝা পাঠায় বাংলার নীলাক্ষ আইচ নামে ওই যুবককে। তবে ললিতকে এখনও গ্রেফতার করতে না পারলেও দিল্লি পুলিশ ৫ ধৃতকে জেরা করে জানতে পেরেছে, এই ললিতই শুরু থেকে গোটা ঘটনাটি আয়োজনের দায়িত্বে ছিল। হামলার পরই কলকাতার এক সমাজসেবী সংস্থায় কর্মরত নীলাক্ষ আইচ নামে ওই যুবককে প্রকাশ্যে সেকথা জানায় ললিত। আর তারপর থেকেই একাধিক রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ রেশন দুর্নীতিতে ধৃত বালুর স্ত্রী-কন্যার ৫৮টি ফিক্সড ডিপোজিটে কোটি কোটি টাকা!
এদিকে ইতিমধ্যেই ললিত ঝা সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। ললিত হরিয়ানার গুরুগ্রামে তার বাড়িতে বসেই সংসদে হামলার ছক কষে বলে খবর। গত চার বছর ধরে দিল্লি লাগোয়া গুরুগ্রামে হয়েছে বুধবারের নাশকতার ছক। স্থানীয় দুজনের সঙ্গে সেখানে ছিল উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার হিসার থেকে জড়িত আরও চারজন।
কিন্তু কে এই ললিত?
হামলাকারীর পরিচয় সামনে এনেছেন বাংলার সমাজকর্মী তথা কলেজ পড়ুয়া নীলাক্ষ। নীলাক্ষর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ললিত ঝা নিজেকে সোশাল মিডিয়ায় সমাজকর্মী বলে পরিচয় দেয়। সেই পরিচয়েই নীলাক্ষর সঙ্গে আলাপ। ললিত মধ্য কলকাতায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকত। দেড় বছর আগে সেই বাড়িতে তালা দিয়ে চলে যায়। গুরুগ্রামে থাকতে শুরু করে। এদিকে বুধবার দুপুর ১টা থেকে ২টোর মধ্যে নীলাক্ষকে হোয়াটসঅ্যাপে সংসদে হামলার ভিডিও পাঠায় ললিত। নীলাক্ষ তার কাছে জানতে চান, কীসের ভিডিও? কোথায় এমন হামলা হল? তার জবাবে অবশ্য ললিত কিছু বলেনি বলেই জানান নীলাক্ষ। পাশাপাশি ওই কলেজ পড়ুয়া আরও জানায় ললিত ২, ৩টি ফোন নম্বর ব্যবহার করত। তবে কোথায় সে কাজ করত, কোন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত, সেসব তথ্য কখনও জানায়নি নীলাক্ষকে।
তবে দিল্লি পুলিশ জানতে পেরেছে, সংসদে হামলার ঘটনার আগে গত কয়েক দিন ধরে যখন হানাদারেরা দিল্লিতে এসে পৌঁছচ্ছিল, তখন তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছিল এই ললিতই। পুলিশ সূত্রে খবর, সংসদের ভিতরে প্রবেশকারী সাগর শর্মা, মনোরঞ্জন ডি এবং সংসদের বাইরে থাকা নীলম সিংহ এবং অমল শিন্ডেকে গুরুগ্রামে ভিকি নামে এক জনের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল ললিত। ভিকির বাড়িতেই হানাদারেরা আশ্রয় নিয়েছিল। আর এই ভিকি আদতে ললিতেরই বন্ধু।




