খবর লাইভ : ধীরে ধীরে কমে আসছে দূরত্ব। আর বাধা মাত্র ১২ মিটার পাথর ও ধ্বংসস্তুপ। যা সরিয়ে ফেললেই মুক্তি পাবেন উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ৪১ জন শ্রমিক। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শ্রমিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে। বুধবার এমনটাই জানিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের প্রশাসনিক কর্তারা।
ধ্বংসস্তুপ সরানোর জন্য আমেরিকা থেকে ড্রিল মেশিন আনা হয়েছে। সে রাজ্যের প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের বার করে আনতে ২০ মিটারেরও কম পাথর এবং ধ্বংসাবশেষ সরানো বাকি রয়েছে। এপ্রসঙ্গে উত্তরাখণ্ড পর্যটন বিভাগের উচ্চ পদস্থ আধিকারিক ভাস্কর খুলবে বলেন, ”আমি ঘোষণা করতে পেরে খুশি যে আমরা আরও ছয় মিটার এগিয়ে যেতে পেরেছি। আশা করছি আগামী দুই ঘন্টার মধ্যে আমরা পরবর্তী পর্যায়ের জন্য প্রস্তুতি নেব। এরপর অবশিষ্ট কাজ করতে পারব।” উদ্ধারকাজের আর ৬৭ শতাংশ বাকি রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ আবার রক্তাক্ত কাশ্মীর! রাজৌরিতে জঙ্গির গুলিতে শহিদ ২ জওয়ান
পরিবহণ বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিক মাহমুদ আহমেদ জানিয়েছিলেন, বুধবার দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ সুড়ঙ্গের মুখে আটকে থাকা পাথর খনন করতে শুরু করে খননযন্ত্র অগার। আজ অর্থাৎ বুধবার রাত সাড়ে ১১ টার মধ্যে ‘বড় খবর’ আসতে চলেছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।
বুধবার বিকেলেও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে উদ্ধারকারী দলের। ৪১ জন শ্রমিক সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তবে, শ্রমিকদের বাইরে আনার পরই প্রথমে তাঁদের চিকিৎসা সাহায্য দেওয়া হবে। যার জন্য সুড়ঙ্গের ঠিক বাইরেই জরুরী ভিত্তিতে একটি অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেই হাসপাতালে ডেকে আনা হয়েছে। তৈরি রাখা হয়েছে লাইফ সাপোর্টের সুবিধা থাকা অ্যাম্বুল্যান্সও।
যদিও সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার মধ্যে শ্রমিকদের সুড়ঙ্গ থেকে বার করে আনা হবে। কিন্তু তা-ও করা যায়নি। এখনও কয়েক মিটার খোঁড়া বাকি আছে। কেন বার বার দেরি হচ্ছে? সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকে কী কী সমস্যায় পড়ছেন উদ্ধারকারীরা?
সুড়ঙ্গে ধস নামার ফলে প্রায় ৬০০ মিটার ধ্বংসস্তূপের পিছনে আটকে পড়েছিলেন শ্রমিকেরা। ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে খুঁড়ে সেই দূরত্ব কমানোর চেষ্টা চলছে। যন্ত্রের মাধ্যমে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে তার ভিতরে পাইপ ঢোকানো হচ্ছে। পাইপের ভিতর দিয়েই উদ্ধারকারীরা গভীরে প্রবেশ করছেন। সেখান দিয়েই বার করে আনা হবে শ্রমিকদেরও। এই পাইপ ঢোকাতেই বার বার বাধা আসছে।
মঙ্গলবারই প্রথমবার প্রকাশ্যে এসেছিল সুড়ঙ্গের ভিতর আটকে থাকা শ্রমিকদের ভিডিও। তাঁরা কী করছেন, কী ভাবে আছেন, দেখা গিয়েছিল ওই ভিডিওতে। রাতে একটি ৬ ইঞ্চির পাইপ লাইনের মাধ্যমে শ্রমিকদের কাছে গরম খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রতিনিয়ত ওয়াকি-টকির মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
সিল্কইয়ারা এবং দণ্ডলগাঁওয়ের মাঝে তৈরি হচ্ছিল উত্তরকাশীর ওই সুড়ঙ্গটি। সেখানেই আচমকা ১৫০ মিটার লম্বা এলাকা জুড়ে ধস নেমেছিল। এগারো দিন ধরে উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে আটকে রয়েছেন ৪১ জন শ্রমিক। ঘুরেফিরে একটাই প্রশ্ন উঠছিল, কবে অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হবে তাঁদের। অবশেষে মিলল উত্তর।



