National Special News Special Reports

নিশ্চুপ রহমান! নজরুলগীতির বিকৃতি: ক্ষমা চাইলেন ‘ পিপ্পা’ নির্মাতারা

0
(0)

খবর লাইভ : যত সময় যাচ্ছে ততই বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। কাজী নজরুল ইসলামের ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানটিতে সুর বিকৃতি নিয়ে দুই বাংলায় এক যোগে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। সবেমাত্র শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে রাজা কৃষ্ণ মেনন পরিচালিত ছবি ‘পিপ্পা’। মুক্তির তিন দিনের মাথায় অফিসিয়াল বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা চাইলেন নির্মাতারা। যদিও সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্টে এই গান ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কেও লিখেছেন তাঁরা। কিন্তু যাঁকে ঘিরে এত কাণ্ড, সেই অস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক এ আর রহমানএখনও নিশ্চুপ! কেন?

বিখ্যাত নজরুলগীতিকে যেভাবে দর্শকের সামনে উপস্থাপিত করেছেন রহমান, তাতে গানের মূল আত্মা বিলীন হয়েছে। বাংলার শিল্পী মহল থেকে শুরু করে কবির পরিবারের প্রত্যেকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। মাঝে দাবি করা হয়েছিল যে, মোটা টাকার বিনিময়ে এই গান কাজী পরিবার বিক্রি করে দিয়েছে। কিন্তু নজরুল নাতনি অনিন্দিতা জানিয়েছেন, যে তাঁর মা কল্যাণী কাজী স্বত্ত্ব বিক্রি করার আগে এটা স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যাতে গানের কোনও ক্ষতি না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কিন্তু গান প্রকাশ্যে আসার পর দেখা গেল এই কথা মানা হয়নি। বাংলা সাংস্কৃতিক মহলের তরফ থেকে আইনি পথে যাওয়ার পরামর্শ উঠে এসেছে। অনেকেই বলছেন এই গান বয়কট করা হোক এবং সিনেমা থেকে অবিলম্বে বাদ দেওয়া দরকার। এত কিছুর মাঝে এবার প্রযোজনা সংস্থা রয় কাপুর ফিল্মস থেকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেওয়া হল সমাজমাধ্যমে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘‘এই গানকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেখানে প্রযোজক, পরিচালক এবং সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে আমরা নজরুল পরিবারের থেকে প্রয়োজনীয় স্বত্ব নেওয়ার পরেই শিল্পের খাতিরে গানটিকে তৈরি করেছি। নজরুল ইসলাম এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি আমাদের মনে গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। গানটির ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে শ্রদ্ধা জানানোই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল। গানের কথা ব্যবহার এবং সুরের পরিবর্তন চুক্তি অনুযায়ী করা হয়েছে। আমরা মূল গানটিকে ঘিরে শ্রোতাদের আবেগকে সম্মান করি। শিল্প যে হেতু ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভরশীল, সেখানে আমাদের পদক্ষেপ যদি কারও আবেগে আঘাত করে থাকে, তার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।”

এই প্রসঙ্গে অনির্বাণ কাজী  জানান যে, গানের কথা ব্যবহার করা হলেও সুর বদলানো যাবে না এই মর্মেই তাঁরা নির্মাতাদের স্বত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু সে কথা মানা হয়নি এমনকি গান রেকর্ডিং হওয়ার পর সেটা তাঁদের শোনানোও হয়নি। কিন্তু খটকা অন্য জায়গায়। যিনি এই কাজটি করলেন অর্থাৎ বিখ্যাত সুরকার এ আর রহমান, তিনি এখনও পর্যন্ত একটি শব্দ খরচ করেননি। যদিও যেসব শিল্পীরা গান গেয়েছেন তাঁরা নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বটে। কিন্তু কেন রহমান এই নিয়ে কিছু বলছেন না? তাহলে কি এর পেছনেও অন্য কোনও কারণ লুকিয়ে আছে? বাড়ছে ধোঁয়াশা!

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *