খবর লাইভ : সমস্ত বেসরকারি স্কুলে বাংলা ভাষা পড়ানো বাধ্যতামূলক করতে সিদ্ধান্ত নিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। প্রথম ভাষা ও দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে বাংলা ও ইংরেজি নিতেই হবে। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের শিক্ষানীতি অনুমোদিত হয়। সেই শিক্ষানীতিতেই স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সব বেসরকারি স্কুলে বাংলা এবং ইংরেজি পড়তেই হবে। মূলত বাংলায় হিন্দি আগ্ৰাসন ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত।
বিভিন্ন সংগঠনের তরফে দাবি ছিল, রাজ্য সরকার পরিচালিত বাংলার সব স্কুলে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা পড়ানো বাধ্যতামূলক করা হোক, সেই সঙ্গে বাংলা পড়ানোর জন্য প্রতিটি স্কুলে দু’জন করে স্থায়ী বাংলার শিক্ষক নিয়োগ করা হোক। সেই দাবি পূরণে এবার সিলমোহন দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভা।
আরও পড়ুনঃ বিরোধীদের জোট ইন্ডিয়াকে ‘ঘমন্ডিয়া’ বলে কটাক্ষ মোদির
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে বলা হয়েছে, রাজ্যের সব মাধ্যমের স্কুলগুলিতেই বাংলা পড়ানোয় আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু তাই নয়, তৃতীয় ভাষা হিসেবে যে অঞ্চলে যে ভাষার কার্যকরিতা বেশি সেই অঞ্চলে সেই ভাষা পড়া যাবে। তা হিন্দিও হতে পারে, সাঁওতালিও হতে পারে।
এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বাংলায় স্বাস্থ্য কমিশনের ধাঁচে তৈরি হবে শিক্ষা কমিশন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে হবে এই কমিশন। শীঘ্রই রাজ্যের তরফে কমিশনের সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
জানা গিয়েছে, সিদ্ধান্ত হয়েছে ওই কমিশনের নেতৃত্বে থাকবেন অসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতি। এছাড়া থাকবেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি।
তাছাড়া সেখানে শিক্ষামন্ত্রীর মনোনীত দুজন প্রতিনিধি থাকবেন। মূলত বেসরকারি স্কুলের ফি নিয়ন্ত্রণ করবে ওই কমিটি।
সেখানে ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তির সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু, সেখানে ফি বৃদ্ধি নিয়ে প্রায়শই বিস্তর অভিযোগ ওঠে। এই নিয়ে অভিভাবকদের আন্দোলন করতেও দেখা যায়। তখনই প্রশ্ন ওঠে রাজ্য সরকার কেন তাতে পড়ুয়াদের স্বার্থে হস্তক্ষেপ করছে না। কিন্তু, এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের হাত পা বাঁধা ছিল। কারণ বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে তাদের করণীয় কিছু ছিল না। এবার সেখানে পদক্ষেপ করতে পারবে কমিশন। এমনটাই মনে করছে শিক্ষা মহল।




