খবর লাইভ : ‘‘এ ভাবে চলতে পারে না! এটা সরকারের জন্যই ক্ষতি! সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সমাজের জন্য এটা সুস্থ ব্যবস্থা নয়।’’ এবার এজলাস বয়কট নিয়ে সরব বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা । প্রসঙ্গত কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব আগেই এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুনঃ সৌদির মাঠে ৯ গোলের লড়াইয়ে জয় ফুটবলের, সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব
বিচারপতি মান্থার আরও বক্তব্য, ‘‘এখনও যে ভাবে অনেক মামলায় সরকারি আইনজীবীরা গরহাজির থাকছেন তাতে ক্ষতি হচ্ছে। আইনজীবীর অভাবে পুলিশ অফিসাররা হাজিরা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য বলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এ তো চলতে পারে না! এটা প্রশাসনের জন্যই ক্ষতির।’’ উল্লেখ্য তাঁর এজলাসে সরকারি আইনজীবীদের একাংশ এখনও অনুপস্থিত থাকছেন।
সম্প্রতি বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাস বয়কট, অবস্থান বিক্ষোভ এবং বিচারপতির বাড়ির সামনে পোস্টার কাণ্ডের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করে কলকাতা হাইকোর্ট। এই পোস্টার মারা থেকে শুরু করে কোথায় ছাপা হয়েছিল— বিস্তারিত জানতে চায় কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ। কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি তা জানাতে হবে আদালতকে।এমনকী এই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট–সহ কোথাও কোনও বিক্ষোভ অবস্থান করা যাবে না, স্লোগান, ব্যানার দেওয়া যাবে না। নির্দেশ দেন তিন বিচারপতির বেঞ্চ। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বিরুদ্ধে যেভাবে আদালতে আইনজীবীদের বিক্ষোভ, বয়কট এবং পোস্টার সাঁটা হয় তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তার জেরে তিন বিচারপতিকে নিয়ে বিশেষ বেঞ্চ তৈরি করে দেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
এই বেঞ্চে আছেন বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম, বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় ও বিচারপতি চিত্তরঞ্জন দাস। প্রসঙ্গত গত ৯ জানুয়ারি কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিলেন আইনজীবীদের একাংশ। পরে বিচারপতি মান্থার এজলাস বয়কটের প্রস্তাবও আনেন বার কাউন্সিলের কলকাতা শাখার সদস্যদের কয়েক জন। চলতে থাকে এজলাসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ। থমকে যায় বহু মামলার শুনানিও। এমনকি, হাই কোর্ট চত্বরে আইনজীবীদের দু’টি দলের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও দেখা যায়। এর পর মান্থার এজলাস বয়কটের জন্য পোস্টারও পড়ে।



