খবর লাইভ :শববাহী যান না পেয়ে মহিলার মৃতদেহ কাঁধে করে বইতে হয়েছিল স্বামী ও ছেলেকে।জলপাইগুড়ির মর্মান্তিক এই ঘটনায় শিউরে উঠেছিল রাজ্য। এই ঘটনায় এবার তদন্ত কমিটি গঠন করলেন জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজে ও হাসপাতালের সুপার কল্যাণ খান। পাশাপাশি ঘটনাটি নিয়ে মামলা দায়ের করেছে পুলিশও।
জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ মাহাতো জানিয়েছেন, একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে আর বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি। ওই দিন ঠিক কী ঘটেছিল তা জানতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদেরও। ওই পরিবারের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুল্যান্স চেয়ে কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, সেসব খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের নিয়ে সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ। চালকদের মানবিকতা দেখানোর অনুরোধ জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ সেন। পুলিশের তরফে চালকদের নতুন গাইডলাইন দেওয়া হয়। পাশাপাশি শুক্রবার রাতে অ্যাম্বুল্যান্সের নতুন রেট চার্টও ঠিক করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার ক্রান্তির বাসিন্দা লক্ষ্মী রানি দেওয়ানকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজের সুপার স্পেশালিটি ইউনিটে ভর্তি করে তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ওইদিন রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর বৃহস্পতিবার মৃতদেহ ক্রান্তিতে তাঁদের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মৃতার ছেলে রামপ্রসাদ দেওয়ান। ক্রান্তিতে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য ৩ হাজার টাকা দাবি করেন অ্যাম্বুল্যান্স চালকরা। কিন্তু পরিবারের কারোর সাধ্য না থাকায় মহিলার দেহ তাঁর স্বামী ও ছেলে কাঁধে করে বহন করেন। যদিও পরে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই ঘটনাতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজ্য প্রশাসনে।




