খবর লাইভ: বগটুইকাণ্ডে লালন শেখের মৃত্যু তদন্তে সিআইডির নজরে এবার রামপুরহাটে সিবিআই-এর অস্থায়ী ক্যাম্পের ইন্টারোগেশন রুম।বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বার সেখানে তদন্তে যায় ফরেন্সিক দল। শাওয়ার পাইপ থেকে শৌচাগারের উচ্চতা, লালনের ওজন ও উচ্চতা, সবটাই পরীক্ষা করে দেখা হয়। এই উচ্চতায় আত্মহত্যা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। লালনের দেহের ভার বহনের ক্ষমতা শাওয়ার পাইপের ছিল কিনা, তা জানতে সম ওজনের সামগ্রী দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
আরও পড়ুনঃ আসানসোলে পদপিষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় নাম না করে শুভেন্দুকে কটাক্ষ দিলীপের
অন্যদিকে রামপুরহাটে সিবিআই হেফাজতে লালন শেখের মৃত্যুর ঘটনায় তৃতীয় দিন সিজিও কমপ্লেক্সে আসেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অজয় ভাটনগর। লালনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের এফআইআর-এ নাম থাকা সিবিআই আধিকারিক ও অফিসারদের সঙ্গে কথা বলেন সিবিআই-এর অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর। গরুপাচার মামলার দুই তদন্তকারী অফিসার সুশান্ত ভট্টাচার্য ও স্বরূপ দে-কেও নিজাম প্যালেস থেকে সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে পাঠানো হয়েছে। গরুপাচার মামলার ওই দুই তদন্তকারী অফিসারের বয়ানও রেকর্ড করা হচ্ছে।
আগামী ১৯ শে ডিসেম্বরের মধ্যে সিবিআইকে আদালতে বিভাগীয় তদন্তের রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৯ ডিসেম্বর। সিবিআইয়ের বক্তব্য এই ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। ‘সিবিআইয়ের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে সিআইডি’। এই তদন্তে ভরসা রাখতে পারা যাচ্ছে না বলে আদালতে জানিয়েছে সিবিআই। সিবিআইয়ের অভিযোগ এটি আত্মহত্যার ঘটনা, কিন্তু খুনের ধারায় মামলা রুজু হয়েছে, পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অন্যদিকে রাজ্যের বক্তব্য, সিবিআইয়ের তদন্তে আমরা বাধা দিচ্ছি না।হেফাজতে মৃত্যু হলে তার তদন্ত কে করবে ? প্রশ্ন রাজ্যের। অন্য তদন্তের সঙ্গে এই তদন্তের কোনও সম্পর্ক নেই, বক্তব্য রাজ্যের।ইতিমধ্যেই লালনের পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ, লালনকে বিরাট মারধর করে সিবিআই, তার দেহ নীল হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া তাঁদের হুমকিও দেওয়া হয়, লালনকে শেষ বার দেখে নিয়ে বলে। পাশাপাশি এও দাবি করা হয়েছে, সিবিআই ৫০ লক্ষ টাকা ঘুষ চেয়েছিল। এদিকে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ, লালনের পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চালিয়ে যাবে সিআইডি। তবে সিবিআইয়ের যে সাত আধিকারিকের বিরুদ্ধ এফআইআর করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না৷ কারণ তাঁরা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তের সঙ্গে জড়িত৷




