খবর লাইভ : বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর এক মন্তব্য ঘিরে রহস্য যেন আরও বেড়ে গেল। শনিবারের ঝাড়খণ্ডের তিন বিধায়কের গাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার, বিরোধীদের সরকার ফেলায় ‘সিদ্ধহস্ত’ অসমের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নাম প্রকাশ্যে আসার পর একটা প্রশ্নই ঘুরে ফিরে আসছে, মহারাষ্ট্রের পর কি এবার গেরুয়া টার্গেট কি ঝাড়খণ্ড? ইতিমধ্যেই তিন কংগ্রেস বিধায়ক-সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আগেই অবশ্য কংগ্রেস তাঁদের সাসপেন্ড করেছে। পুরো বিষয়টা তদন্ত করে দেখবে সিআইডি। এরই মধ্যে রহস্য বাড়িয়েছে ঝাড়খণ্ডের বারমোর কংগ্রেস বিধায়ক কুমার জয়মঙ্গল সিংহের বিস্ফোরক দাবি।
রবিবারই রাঁচির আরগোরা থানায় কুমার অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির তরফে তাঁকে সরাসরি টাকা অফার করা হয়। মন্ত্রিত্বের টোপও দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বিধায়ক লিখেছেন, ঝাড়খণ্ডে বিজেপির সরকার গঠিত হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির পাশপাশি ১০ কোটি টাকার টোপ দেওয়া হয়। জামতাড়ার বিধায়ক ইরফান আনসারিই হিমন্ত-বিজেপি যোগের কথা জানিয়েছিলেন। পুলিসের হাতে ধৃত তিন কংগ্রেস বিধায়কই কলকাতায় আসতে বলেন। হিমন্ত অবশ্য কংগ্রেসের অভিযোগ মানতে চাননি। তাঁর কথায়, ২২ বছর ধরে কংগ্রেস করেছি। অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ রয়েছে।জানি না কেন আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হল।
কুমার জয়মঙ্গল সিংহ লিখেছেন, আমাকে গুয়াহাটিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাওয়াই ছিল ধৃত বিধায়কদের মূল উদ্দেশ্য। ঝাড়খণ্ডে জেএমএম-কংগ্রেস জোট সরকার ফেলে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার জন্যই এমনটা করা হয়েছে। কংগ্রেস বিধায়কদের গাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের পিছনে বিজেপির অপারেশন লোটাসের ছায়া দেখতে পেয়েছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও৷ টুইটে তিনি লিখেছেন, দিল্লির হাম দো-র গেমপ্ল্যান হল মহারাষ্ট্রে যে ভাবে ই-ডি জুটিকে বসিয়েছেন, সেই একই কাজ ঝাড়খণ্ডে করা৷ তৃণমূলও একই অভিযোগ করেছে। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, গোটা ঘটনাটি ঝাড়খণ্ডে সরকার ফেলার চক্রান্ত নয় তো? কারা টাকা দিয়েছেন তাঁদের? এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।
শনিবার হাওড়া সাঁকরাইলের পাঁচলা থানা এলাকায় গাড়ির ভিতর বান্ডিল বান্ডিল টাকা উদ্ধার হয়। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করে পুলিস। গাড়িতে ছিলেন ঝাড়খণ্ডের তিন কংগ্রেস বিধায়ক৷ গতকাল রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর আজ, রবিবার তাঁদের গ্রেফতার করে পুলিস৷ গ্রেফতারের পরই তিনজনকে তুলে দেওয়া হয় সিআইডির হাতে৷ ধৃতরা হলেন ঝাড়খণ্ডের জামতাড়ার বিধায়ক ইরফান আনসারি, খিরজির বিধায়ক রাজেশ কাছাপ এবং কোলেবিরার বিধায়ক নমন বিক্সাল৷ এঁদের সঙ্গে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়৷ ধৃত তিন কংগ্রেস বিধায়ক সহ পাঁচ জনকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।




