Special News Special Reports

গুপ্তিপাড়াতে ভান্ডার লুঠ উৎসবের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

0
(0)

খবর লাইভ : লন্ড ভন্ড হয়ে যায় দল, ভোগ , উপাচার। তাতে জগন্নাথ দেবের হয় চেতনার সঞ্চার।শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে লক্ষী দেবী সর্ষে পোড়া দিয়েও যখন জগন্নাথ দেবকে ঘরে ফেরাতে পারলো না, তখন তিনি বৃন্দাবন চন্দ্র ও কৃষ্ণ চন্দ্র এর কাছে অভিযোগ করলেন। সেখানে জগন্নাথ দেব গোপিনিদের সাথে মজে আছেন তো আছেন ।ফলে তখন বৃন্দাবন চন্দ্র ও কৃষ্ণ চন্দ্রের আলোচনাতে তাকে ভাতে মারার ব্যাবস্থা করলেন। এইখানে গুপ্তিপাড়ার রথের আরেকটি বিশেষ অনুষ্ঠানের কথা এসে পড়ে, যেটা গুপ্তিপাড়া ছাড়া আর কোথাও দেখা যায় না। সেই অনুষ্ঠানের নাম ‘ভাণ্ডার লুঠ’। ভান্ডার লুঠের উদ্দেশ্য সেখানে জগন্নাথদেব ভালোমন্দ যা খাচ্ছেন সেগুলো লুঠ করে আনা। যাতে অন্তত পেটের টানে তিনি বাড়ি ফেরেন। বিকেলে বৃন্দাবনচন্দ্র আর কৃষ্ণচন্দ্রকে দুটি দোলায় চাপিয়ে শোভাযাত্রা করে নিয়ে আসেন গুপ্তিপাড়ার বাসিন্দারা ।ততক্ষণে সে বাড়ির তিনটি বন্ধ দরজার সামনে খালি গায়ে চলছে বাহুবলীদের মহড়া।তখন তিনটে দরজা বন্ধ দেখে বৃন্দাবন চন্দ্র শিলা দড়ি দিয়ে ওপরে তুলে দেওয়া হয়। তিনটে দরজা একসঙ্গে খুলে দেওয়া হয় । তখন ভক্তরা সব ভোগ লুট করে নেই। সব ভোগ লুট করে তারা ভোগ বিলিয়ে দেয় ভক্তদের মাঝ খানে। খাবার না পেয়ে হুঁশ ফিরল জগন্নাথ দেবের। তিনি বুঝতে পারলেন অভুক্ত অবস্থায় আর মাসির বাড়িতে থাকা যাবে না। পরের দিন উল্টো রথে সোজা গিয়ে হাজির হলেন লক্ষ্মীর কাছে।

আবার এই বিষয় নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। অনেকে বলেন, বৃন্দাবন চন্দ্রর প্রচুর ধনসম্পত্তি ছিল। তাই মন্দির চত্বর পাহারা দেবার উপযুক্ত লোক জোগাড় করার জন্য তিনি এই লুঠের আয়োজন করতেন। যারা বেশি সংখ্যায় ভাণ্ডার লুঠ করতে পারত তারাই হত সবচেয়ে বেশি শক্তিমান। তাদের বৃন্দাবন চন্দ্র তার মন্দির পাহারার দায়িত্বে নিয়ােগ করতেন।

আরও পড়ুনঃ নভি মুম্বই পুরসভায় ভাঙন শিবসেনার
এই উৎসব গুপ্তিপাড়া ছাড়া অন্য কোথায় হয় না । ভান্ডার লুঠের জন্য গোবিন্দভোগ চালের খিচুড়ি, বেগুন ভাজা, কুমড়ো ভাজা, ছানার রসা, পায়েস, ক্ষীর, ফ্রায়েড রাইস, মালপোয়া, সন্দেশ, ও রাবড়ি সহ মোট ৫২টি পদ সহ প্রায় ৫৫০ টি মালসা তৈরি করা হয়। প্রতিটি মালসা প্রায় ৫ থেকে ৮ কেজি করে খাবার থাকে।

এই কর্মযজ্ঞের জন্য প্রায় ১০ জন রাঁধুনি ও ১০ জন সাহায্যকারী সহ মােট ২০ জন রান্নার কাজ করেন। নিয়ম মেনে দুপুর দুটোর আগেই সমস্ত খাবার তৈরি করে মালসায় সাজিয়ে মাসির বাড়িতে রাখা হয়। বিকেল ৩ টায় মাসির বাড়ির দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বৃন্দাবন চন্দ্র আর কৃষ্ণ চন্দ্র যাওয়ার পর জগন্নাথদেব ও তাদের একসাথে আরতি হয়।এরপর বৃন্দাবন চন্দ্র ও কৃষ্ণ চন্দ্র মঠে ফিরে আসে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *