খবর লাইভ : নারদ মামলায় অভিযুক্ত শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার ‘সাক্ষাৎ’ নিয়ে বিতর্কের জল এবার গড়াচ্ছে রাষ্ট্রপতি ভবনেও। সিবিআইয়ের আইনজীবী হিসেবে নারদ মামলায় অভিযুক্ত শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করে পদের গরিমা ধুলোয় মিশিয়েছেন এমন অভিযোগ এনে সলিসিটর জেনারেলের পদ থেকে তুষার মেহতাকে অপসারণের দাবি জানিয়ে সোমবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করবেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদ। সূত্রের খবর, শুধুমাত্র সলিসিটর জেনারেলই নয়, রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকেও সরানোর জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানাবেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা।
গত বৃহস্পতিবার দিল্লির ১০ আকবর রোডে দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার বাসভবনে নারদ মামলায় অভিযুক্ত শুভেন্দুর হাজির হওয়া নিয়ে গত তিনদিন ধরে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কোমর কষে আসরে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। শুক্রবার সকালেই দলের তিন সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুখেন্দুশেখের রায় ও মহুয়া মৈত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি পাঠিয়ে সলিসিটর জেনারেলের পদ থেকে তুষার মেহতাকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন। ওই চিঠির পরেই অবশ্য বৈঠকের কথা অস্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছেন সলিসিটর জেনারেল ও নারদ মামলায় অভিযুক্ত শুভেন্দু। কিন্তু তুষার যে সাফাই দিয়েছেন, তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরিই শুভেন্দুর উপস্থিত থাকাকালীন সলিসিটর জেনারেলের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। যদিও সেই চ্যালেঞ্জ এখনও পর্যন্ত গ্রহণ করেননি তুষার মেহতা।
এদিনও অবশ্য নারদ অভিযুক্ত শুভেন্দুর সঙ্গে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার ‘গোপন বৈঠক’ নিয়ে টুইটে খোঁচা দিয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘নারদ কাণ্ডে অভিযুক্ত সলিসিটর জেনারেলের (যিনি নারদ মামলায় আবার সিবিআইয়ের আইনজীবী) বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন একটি গাড়ি করে। তাঁকে সুরক্ষা কর্মীরা বাড়ির ভিতরে নিয়ে যান এবং তিনি ৩০ মিনিট পরে সেখান থেকে বের হন। এরপরেও বলা হচ্ছে কিছু হয়নি। সত্যি! ’শুভেন্দু-তুষারের গোপন বৈঠকের’ বিষয়টি এত সহজে ছেড়ে দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। কেন নারদ মামলায় অভিযুক্ত শুভেন্দুকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না, তা লাগাতারভাবে তুলে ধরে বিজেপির উপরে চাপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, আগামী ১৯ জুলাই থেকে সংসদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে। ওই অধিবেশনেও শুভেন্দুর সঙ্গে সলিসিটর জেনারেলের ‘গোপন বৈঠকের’ বিষয়টি নিয়ে সরব হবেন দলের সাংসদরা। প্রয়োজনে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন সুষ্ঠভাবে ও নির্বিঘ্নে চলতে দেবেন না। সিবিআই যে আসলে কেন্দ্রের শাদসকদলের হাতের পুতুল হয়ে উঠেছে তা গোটা দেশের কাছে তুলে ধরবেন।




