খবর লাইভ : সামনেই বিধানসভা ভোট। এই অবস্থায় হুগলির জাঙ্গিপাড়ার মুণ্ডুলিকা এলাকায় হাই এক্সটেনশন লাইনের তলায় চলছে বেআইনি মাটি কাটার কাজ। হাওড়ার সীমানাবর্তী এই এলাকায় কৃষকদের ওপর চরম অত্যাচার চালিয়ে কুতুব নামে এক দুষ্কৃতী বেআইনিভাবে মাটি কাটার কাজ করলেও প্রশাসন নিষ্ক্রিয়। চাষীরা ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু তাতেও কোনও সুরাহা হচ্ছে না। বছর দেড়েক আগে কুতুবের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে মাটি কাটার অভিযোগ থাকায় মশাটের ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক স্মৃতিকণা পাল মামলা দায়ের করলেও জাঙ্গিপাড়ার ভূমি রাজস্ব আধিকারিক এখনও নীরব। মুণ্ডুলিকা এবং আঁইয়া- মোট দুটো জায়গায় প্রায় ৫০টির বেশি গাড়ি চালিয়ে মাটি কাটার কাজ করছে এই মাটি মাফিয়া। আঁইয়া বাজার জনবহুল হওয়া সত্ত্বেও একের পর এক বেআইনি মাটির গাড়ি চলায় ব্যবসায়ীরাও অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। বাজারের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকছে ভুঁড়ি ভুঁড়ি কাদামাটি। শুধু তাই নয়, দিন দুয়েক আগে এক বৃদ্ধ সাইকেল নিয়ে যখন যাচ্ছিলেন সেই সময় তাঁকে ধাক্কাও মারে মাটির ছোট গাড়ি। প্রতিবাদ জানালে ওই বৃদ্ধকে কুতুব ও তার লোকজন মারধর করে বলে অভিযোগ।
মুণ্ডলিকা পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি হুগলি জেলা খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ শেখ আব্দুল জব্বারের। কিন্তু তাঁর বাড়ি থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে এধরনের বেআইনি কাজ হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই ঘটনায় এলাকার লোকজন অতিষ্ট হয়ে উঠলেও জাঙ্গিপাড়ার বিএলআরও সুব্রত সরকার অবশ্য কোনও ব্যবস্থা নিতে নারাজ। অভিযোগপত্র পেলে তবেই তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারবেন বলে জানান। সুব্রত বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ কোনও অভিযোগ না করলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব না।’
রাজ্যে বেআইনি কয়লা খাদান, বালি খাদান, গরু পাচার রমরমিয়ে চললেও প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সিবিআই এই সমস্ত বিষয়গুলি নিয়ে মাথাচাড়া দিয়েছে। বেশ কিছু মাফিয়ার বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থাও নিতে শুরু করেছে। ভোটের মুখে মুণ্ডলিকা এলাকায় এই ধরনের কাজ মেনে নিতে পারছেন না তৃণমূলের একাংশ। এতে দল বিপাকে পড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এরাজ্যে জঙ্গলরাজ চলছে। তাই তো বেআইনি কারবারের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। আমরা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলব এবং তাঁদের বলব আন্দোলনের পথে যেতে।’


