Special News

ইতিহাসে কলকাতা: মেসি ইভেন্টে বিশৃঙ্খলা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন

0
(0)

খবর লাইভ :  কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শনিবার অনুষ্ঠিত লিওনেল মেসির ‘GOAT India Tour 2025’ ইভেন্টটি পরিকল্পিত আনন্দের বদলে বিশৃঙ্খলা ও হতাশার পরিবেশে বদলে গেছে। হাজারো ফুটবল-প্রেমী মেসিকে দেখার জন্য বড় বিমানে ভিড় জমিয়েছিলেন; কিন্তু ভুল পরিকল্পনা ও দুর্যহ পরিচালনার কারণে পরিস্থিতি বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমেও আলোচ্য
নিউ ইয়র্ক টাইমস, ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান সহ স্পেনের মার্কা ও ফ্রান্সের পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো কলকাতার বিশৃঙ্খলার খবর প্রধান শিরোনামে প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, মেসির ইভেন্টটি পরিকল্পনার অভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় এবং দর্শকরা মেসিকে দেখতে পায়নি‌।

কি ঘটেছিল মূল ঘটনাস্থলে?

ইভেন্টে মেসির আগমনের কথা ছিল প্রায় এক ঘণ্টা থাকার এবং দর্শকদের সঙ্গে কথা বলার, তবু তিনি নিরাপত্তা অভাবে মাত্র প্রায় ২০–২২ মিনিট এখানে উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে থাকাকালীন তাঁকে শক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘিরে রাখা হয়, ফলে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশ থেকে দর্শকদের মেসিকে দেখাও যায়নি। এর পরই উত্তেজিত দর্শকরা সিট, বোতল ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিক্ষেপ করতে শুরু করেন এবং কিছুক্ষণ পরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

দর্শকদের ক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলা

অনেক দর্শক জানিয়েছেন তারা সকাল থেকে অপেক্ষা করেও মেসিকে চোখে দেখতে পারেননি, আবার অনেকেই টিকিটের মূল্য নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন। ভি.আই.পি ও নিরাপত্তা চাইলে মেসিকে ঘিরে রাখায় সাধারণ দর্শকেরা মাঠের ভেতরে ঠিক অবস্থান করতে পারেননি, ফলে চিৎকার করে “We want Messi” বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। এর পরেই বোতল, চেয়ার ভাঙ্গা এবং স্টেডিয়ামে ভাঙচুর শুরু হয়।

আয়োজক ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
পুলিশ ইভেন্টের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত-কে গ্রেফতার করেছে এবং মিস ম্যানেজমেন্ট-এর জন্য তাঁকে দায়ী করেছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেসি ও দর্শকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

ফুটবল ফেডারেশন ও অন্যান্য বিবৃতি
আলোচিত ঘটনার পর অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন বলেছে, তারা এই ইভেন্টে কোনোভাবে জড়িত ছিল না এবং পুরো পরিস্থিতির কারণে তারা “গভীর উদ্বিগ্ন”। আর তারা দর্শক সুরক্ষা ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছে।

যুবভারতীর ফেন্সিং টপকানো নিয়মিত মাঠে যাওয়া সমর্থকদের কাছে কষ্টসাধ্য নয়। কিন্তু সেই ঝুঁকি না নিয়ে ফেন্সিংয়ের লোহার ছিটকিনি ভাঙা হয়েছে আধলা ইট দিয়ে। প্রথমে দু’নম্বর গ্যালারিতে। তার পর ক্রমে ভিআইপি, চার নম্বর এবং পাঁচ নম্বর গ্যালারিরও গেটের ছিটকিনি ভাঙা হয়েছে। চতুর্দিক দিয়ে মানুষের স্রোত ঢুকে পড়েছে মাঠে। তার পরে গোটা মাঠ তাদেরই দখলে চলে গিয়েছিল। তার যথেচ্ছ ভাঙচুর করেছে। উপড়ে নিয়েছে মাঠের ঘাস, গ্যালারির চেয়ার। তুলে নিয়েছে ফুলগাছ-সহ টবও।

তাণ্ডবের সময়ে দেখা যায়, তিন নম্বর এবং দুই নম্বর গ্যালারির দিক থেকে দু’জন দু’টি গেরুয়া পতাকা নিয়ে মাঠের মাঝখানে চলে এসেছেন। সেই দুই যুবককে ঘিরে দেখা যায়, এক দঙ্গল লোক জয় শ্রীরাম স্লোগান দিচ্ছেন। তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপি গেরুয়া পতাকা গায়ে দিয়ে লোক ঢুকিয়ে গোলমাল পাকিয়েছে। উল্টো দিকে, বিজেপির বক্তব্য, এর সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্কই নেই। তৃণমূলই নজর ঘোরাতে গেরুয়া পতাকা হাতে ধরিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *