খবর লাইভ : দিল্লিতে ভ্লাদিমির পুতিন এবং নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বৈঠকে এক বড় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। রাশিয়া থেকে আমদানি করা অস্ত্র, সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তির রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্পেয়ার পার্টস তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি এখন থেকে ভারতে তৈরি হবে।
এতে দেশীয়ভাবে ‘রক্ষণাবেক্ষণ-শাখা’ গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। রুশ সরঞ্জাম ব্যবহারের সময়ে দীর্ঘ স্টোর-ও-সংযোগ ঝামেলার কারণে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাংশের তীব্র বিরোধ ছিল। নতুন উদ্যোগের ফলে সেই সমস্যার অবশিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।
দুই দেশ একটি যৌথ বিবৃতি জারির মাধ্যমে জানিয়েছে, শুধু রক্ষণাবেক্ষণ নয়, ভবিষ্যতে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি তৈরি এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানো হবে অর্থাৎ, শুধুই পুরোনো অস্ত্রের স্পেয়ার-পার্টস নয়, আগামীর প্রযুক্তি-ভিত্তিক সহযোগিতাও পরিকল্পনায় রয়েছে।
তাছাড়া, এই উদ্যোগের আওতায় ভারতের তৈরি সামরিক প্রযুক্তি এবং পার্টসকে তৃতীয় দেশেও রফতানি করার বিষয়ে দুই পক্ষই আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শুধুই অভ্যন্তরীণ চাহিদা নয়, আন্তর্জাতিক বাজারও লক্ষ্য করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধুই সামরিক চাহিদা মেটানোর চেষ্টাই নয়। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরশীলতা বা ‘অ্যাটমনির্ভর ভারত’ গঠনের আরও এক বড় ধাপ। এর ফলে ভবিষ্যতে বিদেশি অস্ত্র আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, নিজস্ব সক্ষমতার দিকে ঝোঁক বাড়বে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী যে সব প্রযুক্তি বা অস্ত্র ব্যবহার করে, তার অনেকগুলিই রাশিয়ায় তৈরি। সেনাবাহিনীর একাংশের অভিযোগ, রুশ অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়, তা এত দিন রাশিয়া থেকে আনানো হত। এই কাজের জন্য অনেক বেশি সময় লাগত। এর ফলে সেই অস্ত্র মেরামতি বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজও বাধাপ্রাপ্ত হত বলে খবর। রুশ অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ করার প্রযুক্তি ভারতে তৈরি হলে সেই সমস্যা অনেকটাই মিটবে বলে আশা।
বৃহস্পতিবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গে বৈঠক করেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রে বেলুসোভ। সেখানেই প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে ভারত এবং রাশিয়া। রাশিয়া থেকে আরও এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়েও ইচ্ছাপ্রকাশ করেছে ভারত। ২০১৮ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার থেকে পাঁচটি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য চুক্তিতে সই করেছিল ভারত। আমেরিকার হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের সেই চুক্তি হয়েছিল। ভারতীয় মুদ্রায় তার মূল্য আজকের দিনে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা। তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যে হাতে পেয়েছে ভারত। সিঁদুর অভিযানে ওই এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।




