খবর লাইভ : দেশে ভোটার তালিকা সংশোধন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা বাড়ছে। বুধবার, এসআইআর-কে চ্যালেঞ্জ করে বিভিন্ন রাজ্য থেকে দায়ের করা আবেদন শীর্ষ আদালতে শোনা হয়েছে।
আদালতে প্রধান যুক্তি
• কেরালা রাজ্যের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে এস আই আর-এর কাজ পুরসভা নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, একই সময়ে ভোট তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন পরিচালনা প্রশাসনিক দিক থেকে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
• বিভিন্ন বিরোধী দল এবং সিপিএম, কংগ্রেস, আইইউএমএল-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল এসআইআর-কে সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। তাঁদের মতে, এই প্রক্রিয়া তৎক্ষণাৎ চালু করার সিদ্ধান্ত তৎপর এবং ভয়-ভীতি তৈরি করছে।
এসআইআর নিয়ে উদ্বেগ
• প্রতি ২০০২ সালের পুরনো ভোটার তালিকাকে ভিত্তি ধরে এসআইআর করা হচ্ছে, যা অনেকেই ‘অ-বৈজ্ঞানিক ও অনিরাপদ’ বলছেন। কারণ, গত কয়েক নির্বাচনের পর বিন্যাস পরিবর্তন হয়েছে, নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে।
• বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, বিশেষ করে সংখ্যালঘু, গরীব, মাইগ্র্যান্ট বা প্রবাসী ভোটাররা এই পরিবর্তনে বাদ পড়বেন। যদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকে বা যাচাই প্রক্রিয়া জটিল হয় — তাহলে ভোটাধিকারে বহিষ্কৃত হবার ভয় রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও আদালতের প্রতিক্রিয়া
• নির্বাচন কমিশন বলেছে, ইতিমধ্যেই প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোটারকে ফর্ম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং এর প্রায় অর্ধেক ফর্ম ডিজিটাইজড।
• আদালত ১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে মন্তব্য জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। পরবর্তী শুনানি ও সিদ্ধান্তের তারিখ নির্ধারণ হয়েছে।
রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিষয়ে বিরোধীদলের ঐক্য চোখে পড়েছে। বিশেষ করে সিপিএম, কংগ্রেস, আইইউএমএল-এর মতো দলগুলো একত্রে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, দ্রুত ও তৎক্ষণাৎ এসআইআর প্রক্রিয়া চালু করার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন বলছে, কাজ সময়মতো শেষ করতে হবে, যাতে সময়মতো নির্বাচন শেষ করা যায়। তবে ভোটারদের মধ্যে জটিলা, ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং প্রবাসী বা দুরবর্তী ভোটারদের ভোটাধিকার রক্ষা হবে কিনা, সে বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
বিরোধীদের এই সম্মিলিত চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিহারে যদিও এই প্রক্রিয়া স্থগিত হয়নি। সেখানে নির্বাচনও হয়ে গিয়েছে।




