খবর লাইভ : পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন বাতিলের হুঁশিয়ারি ব্যাঙ্কশাল আদালতের। বিরক্তি প্রকাশ করে বিচারক শুভেন্দু সাহা জানতে চান, চিকিৎসক তো বেড রেস্টের কথা বলেননি। তা হলে আদালতে এলেন না কেন? বিচারক স্পষ্ট বলে দেন, যে জামিন তিনি কনফার্ম করেছেন, তা খারিজও করে দিতে পারেন। বিচারক বলেন, আশা করি পচা শামুকে পা কাটবেন না।
এদিকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর এবার বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠালেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই চিঠিতে তিনি জানালেন, বিধানসভার অধিবেশনে তিনি যোগ দিতে চান। বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনের বিষয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে তাই চিঠি পাঠালেন পার্থ।
কিন্তু বিধানসভাকে এখনও প্রেসিডেন্সি জেল কর্তৃপক্ষ চিঠি পাঠায়নি। তারা রিলিজের ব্যাপারে চিঠি না দিলে অধিবেশনে যোগ দেওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে বলেই বিধানসভা সূত্রে খবর।
জেলমুক্তির পর বাড়ি ফিরেই ঘনিষ্ঠবৃত্তে পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন তিনি কাজে ফিরতে চান। শোনা গিয়েছিল, বিধানসভায় শীতকালীন অধিবেশনেও নাকি যোগ দিতে চাইছেন তিনি। সেখানে সমস্যা একটাই, তিনি কোথায় বসবেন। কারণ, তৃণমূলের টিকিটে জিতলেও দল তাঁকে সাসপেন্ড করেছে।ফলে নিজের পছন্দের আসনে বসতে পারবেন না তিনি।
বুধবারও ব্যাঙ্কশাল আদালতে সশরীরে হাজিরা দিলেন না পার্থ চট্টোপাধ্যায়। হাজিরা না দেওয়ায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে জামিন বাতিল করার হুঁশিয়ারিও দিলেন বিচারক। অন্যদিকে, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাসপোর্ট আজ আদালতে সারেন্ডার করেন তাঁর আইনজীবী।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অনেকেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির ইডির মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত। ইডি বিশেষ আদালতে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ট্রায়াল কোর্টে শুনানির নির্ধারিত দিনে আদালতে পার্থ সহ অনেকেই যাঁরা জামিনে মুক্ত তাঁরা বুধবার অনুপস্থিত ছিলেন। তাতেই উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারক শুভেন্দু সাহা।
বিচারক তাঁদের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যেক শুনানিতে কোর্টে থাকতে হবে। অন্যথা এই কোর্টের পূর্ণ ক্ষমতা আছ্ হাজিরা না দিলে জামিন বাতিল করে দেওয়ার। আশা করি আপনারা পচা শামুকে পা কাটবেন না।
প্রসঙ্গত, গত ১১ নভেম্বর জামিন পান শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত কয়েক মাস ধরেই বাইপাসের ধারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই যান নাকতলার বাড়িতে৷
এছাড়া, আজ আদালতে হাজিরা দিয়েছেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। ২০০২ সালের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার আবেদন করা হয় তাঁর তরফে। এই আবেদনের শুনানি ৮ ডিসেম্বর।




