খবর লাইভ : বঙ্গোপসাগরে গত কয়েক দিনে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। বঙ্গোপসাগরে এর গতিবেগ ও গতিপথে উদ্বেগ বাড়ছে।
কী বলছে হাওয়া অফিস?
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবারের মধ্যেই ওই নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় উত্তাল হয়ে দ্রুত উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে আন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে।
উপকূলে পৌঁছানোর সময় বিকেল থেকে সন্ধ্যার দিকে হতে পারে। প্রস্তুতির সময় খুবই কম রয়েছে।
কি কি ঝুঁকি রয়েছে?
• আন্ধ্রপ্রদেশের মিছুলিপত্তনম-কাকিনাড়া অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
• স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় ঘণ্টায় ৯০–১০০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে; দমকা ঝড়ের বেগ একসময় ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটারও পৌঁছাতে পারে।
• সমুদ্রে ঝড়ো হাওয়া বইছে; মৎস্যজীবীদের দ্রুত সতর্ক করা হয়েছে সমুদ্র থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য।
পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তুতি
পশ্চিমবঙ্গেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আগামী তিন-চার দিন বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরে জলপাইগুড়ি ও আশেপাশের এলাকায় বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
মৎস্যজীবীদের জন্য নির্দেশিকা
• মৎস্যচাষ ও সমুদ্রে মাছ ধরার কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
• ২৭ তারিখের মধ্যে সকলকে স্থলভাগে চলে আসার পরামর্শ দিয়ে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত নিম্নচাপ রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে। ঘণ্টায় সাত কিলোমিটার বেগে তা উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। শনিবার রাত পর্যন্ত নিম্নচাপের অবস্থান পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ৪৪০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিম, বিশাখাপত্তনম থেকে ৯৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব, চেন্নাই থেকে ৯৭০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্ব, কাকিনাড়া থেকে ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এবং ও়়ড়িশার গোপালপুর থেকে ১০৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব। রবিবারের মধ্যে এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। সোমবার তৈরি হবে ঘূর্ণিঝড়। মঙ্গলবার তা প্রবল আকার নিয়ে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়বে। অন্ধপ্রদেশের পাশাপাশি ওড়িশা, তামিলনাড়ুতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।




