বৃষ্টির কারণে ম্যাচের মোড় বারবার বদলালেও, দুই ভারতীয় ওপেনারের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের সামনে এদিন দাঁড়াতে পারেনি কিউয়ি বোলাররা।টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতের দুই ওপেনার স্মৃতি মন্ধানা এবং প্রতিকা রাওয়াল যেন নিজেদের ব্যাটে সমালোচনার জবাব দিলেন। মন্ধানা আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করে ৯৫ বলে ১০৯ রানের এক বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছয়। অপরদিকে রাওয়াল অভিজ্ঞ মন্ধানার পাশে উইকেট আগলে রেখে, পরে আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১৩৪ বলে ১২২ রানের ধৈর্যশীল অথচ আক্রমণাত্মক ইনিংস (১৩টি চার, ২টি ছয়)।
প্রথম উইকেটে ২১২ রানের রেকর্ড জুটি গড়ে ভারতীয় ইনিংসকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করান তাঁরা। এরপর তিন নম্বরে নামা জেমাইমা রদ্রিগেজও কম যাননি। মাত্র ৫৫ বলে ৭৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ভারতের স্কোরকে নিয়ে গেলেন ৪৯ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৪০ রানে। এটিই মহিলাদের এক দিনের বিশ্বকাপে ভারতের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।
বৃষ্টির কারণে নিউজিল্যান্ডের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৪ ওভারে ৩২৫ রান। কিন্তু শুরুতেই ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। কিউয়ি ওপেনার সুজি বেটস (১) দ্রুত আউট হওয়ার পর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন অ্যামেলিয়া কের (৪৫) ও জর্জিয়া প্লিমার (৩০)। ভারতের পক্ষে সফলতম বোলার রেণুকা সিংহ ঠাকুর (২৫ রানে ২ উইকেট) এবং ক্রান্তি গৌড় (৪৮ রানে ২ উইকেট) শুরুতেই চাপ সৃষ্টি করে দেন।
মাঝের ওভারে কিউয়ি অধিনায়ক সোফি ডিভাইনও (৬) ব্যর্থ হলে চাপ বাড়ে। একা চেষ্টা চালান ব্রুকি হ্যালিডে (৮১) এবং শেষে ইসাবেলা গেজে (৬৫)। কিন্তু প্রয়োজনীয় রান তোলার গতি বাড়াতে না পারায় নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে ২৭১ রানে থেমে যায়। এই জয়ের ফলে ভারত লিগ টেবিলে চতুর্থ স্থান নিশ্চিত করল। তবে প্রথম তিন স্থানাধিকারী অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ডের মধ্যে কে কার প্রতিপক্ষ হবে, তা এখনও চূড়ান্ত নয়। আগামী ২৯ এবং ৩০ অক্টোবর দু’টি সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।




