Special News Special Reports State

উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি থামতেই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে জীবন

0
(0)

খবর লাইভ : শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত অবিরাম বৃষ্টির ফলে দার্জিলিং, কালিম্পং ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক ধ্বংস ও বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল। তবে রবিবার দুপুর থেকে নতুনভাবে তেমন ভারি বৃষ্টিপাত হয়নি, যা ধাপে ধাপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেছে।

বৃষ্টি থামলেও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় এখনো দুর্যোগের দাগ স্পষ্ট। অনেক এলাকা জলমগ্ন বা ধ্বংসপ্রাপ্ত। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলোর তৎপরতায় ধীরে ধীরে বিপর্যস্ত এলাকা পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মৃত্যু

উত্তরবঙ্গের নদীগুলোর জলস্তর অনেকাংশেই নেমে এসেছে এবং নতুন বৃষ্টির সম্ভাবনাও বিন্দুমাত্র নেই বলে আলিপুর আবহাওয়া দফতর দাবি করেছে।
এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ২৫ জনের। উদ্ধারকাজ ও মৃতদেহ সনাক্তের কাজ বিভিন্ন জেলায় চলছে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতদের পরিবারকে অনুদান হিসাবে প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে প্রদান করবেন বলে ঘোষণা করেছেন।
মৃত ব্যক্তির পরিবারের এক জনকে হোমগার্ড সার্ভিসে নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

বিধ্বস্ত সেতু ও রাস্তা প্রায় হদিস পাচ্ছে না। বিশেষ করে মিরিকের লোহার সেতুটি ধসে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন সেতু নির্মাণ হতে এক বছর সময় লাগতে পারে, কিন্তু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না রাখতেই একটি অস্থায়ী সেতু দ্রুত করা হবে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্ভোগে

দার্জিলিং জেলার বেশ কিছু এলাকা ধসের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রোহিণি রোডের একাংশ নদীর দিকে ধসে গেছে, এবং তিস্তার জলস্তর NATIONAL HIGHWAY-র উপরে উঠে গিয়ে সড়ক বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে উত্তরবঙ্গে সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলে দুটি রাস্তা চালু রয়েছে — হিল কার্ট রোড ও পাঙ্খাবাড়ি রোড। যদিও পাঙ্খাবাড়ি রোডটি কিছু অংশে অনির্বাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ, তবু সেটাই একমাত্র বিকল্প।

রাজনৈতিক নজরদারি

বিপর্যস্ত এলাকায় বিজেপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল‐নেতৃবৃন্দ দ্রুত হাঁটাছুঁড়ি শুরু করেন। স্থানীয় সাংসদ ও বিধায়করা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে পড়েছেন।

রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোসও দুধিয়ার এলাকায় পরিদর্শনে গেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ম্যান-মেড বন্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, ভুটান ও সিকিম থেকে প্রবাহিত জল এবং ১২ ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ মিমি বৃষ্টিপাত অতিরিক্ত ত্রাণপ্রবাহের সঙ্গে বেশি ছিল, যা স্বাভাবিকভাবে হজম করা সম্ভব হয়নি।
তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অভিযোগ এনেছেন যে, বন্যা প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনায় রাজ্যকে পর্যাপ্ত অর্থায়ন দেওয়া হয়নি।
এখনও ঝুঁকি রয়েছে

যদিও নতুন ভরা বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, তবুও কিছু অংশে হালকা থেকেপ্রবাহক বৃষ্টিপাত হতে পারে।
উদ্ধারকাজ, পরিষ্কারকরণ ও পুনর্নির্মাণ এখনও চলমান। প্রশাসন জানিয়েছে, কোন জায়গাতেই ত্রাণ ও পুনরুদ্ধার কাজে ঢিলেঢালা করা হবে না।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *