খবর লাইভ : “আজকের দিনটা খুব একটা সুখের দিন না, মুখ্যমন্ত্রীর উচিত ছিল আজই উত্তরবঙ্গে পৌঁছে যাওয়া। আজকে শোকের আবহে দুর্গাপুজো কার্নিভালের প্রয়োজন ছিল না। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যে নাড়ির যোগ রয়েছে সেটা বোঝাতে আজকে উত্তরবঙ্গে যাওয়াটা ওনার জরুরি ছিল”, এভাবেই মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের।
প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। দুর্যোগে দার্জিলিংয়ে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। আটকে পড়েছেন হাজারে হাজারে পর্যটক। বন্ধ রয়েছে সমস্ত পর্যটন কেন্দ্র। আপাতত পর্যটকদের হোটেলে থাকার পরামর্শ জারি করেছে জিটিএ। এদিকে আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পুর্বাভাস জারি করা হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাজ্যের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, “শনিবার সন্ধ্যা থেকে টানা বৃষ্টিতে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড় বিধ্বস্ত। একের পর এক ধস নেমে বহু রাস্তা বন্ধ, তিস্তার জল উঠে এসেছে জাতীয় সড়ক পর্যন্ত। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উত্তরবঙ্গের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন— কেন্দ্রীয় সরকার সর্বতোভাবে রাজ্যের মানুষের পাশে রয়েছে। এই কঠিন সময়ে আমরা উত্তরবঙ্গবাসীর সঙ্গে একাত্ম। ভূটানে প্রবল বর্ষণের জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিয়েছে। এই দুর্যোগ আমাদের সকলের, এই শোক আমাদের সবার। কিন্তু আমরা হার মানব না। দলের প্রতিটি কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীর কাছে আহ্বান— মানুষের পাশে দাঁড়ান, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন”।
রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে উত্তর বঙ্গের ভয়াবহ বিপর্যয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দুর্গম এলাকায় যাতে দ্রুত ত্রাণ-সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া যায় সেই আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে বিরোধী দলনেতা লিখেছেন, “উত্তরবঙ্গে টানা ভারী বৃষ্টির জেরে দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াংয়ের মত পার্বত্য অঞ্চল ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধস ও বন্যার কারণে শিলিগুড়ি, ডুয়ার্সের সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ দুর্যোগে আটকে পড়েছেন। প্রয়োজনীয় খাদ্য, জল, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়েছেন তারা। ইতিমধ্যেই কয়েকজনের মৃত্যুর খবর এসেছে, যদিও সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। আমি মুখ্যসচিবকে আহ্বান জানাচ্ছি যেন অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়”।
বিরোধী দলনেতা রাজ্য প্রশাসনকে অনুরোধ করে লিখেছেন, “অবিলম্বে সরকার বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। এলাকাগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা যাতে স্বাভাবিক করা যায় তার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক”। পাশাপাশি সেখানকার মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য ও জল পৌঁছে দিতেও অনুরোধ করেছেন শুভেন্দু।




