খবর লাইভ : ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের শরিক হল ব্রিটেন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। তিন দেশই একযোগে প্যালেস্টাইনকে সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিল। প্যালেস্টাইন সমস্যার সমাধানে দুই রাষ্ট্র পদ্ধতিতে গতি আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। খুব শীঘ্রই ফ্রান্স ও পর্তুগাল প্যালেস্টাইনকে স্বীকৃতি দিতে চলেছে।
রবিবার সকাল থেকে ইজরায়েলের হানায় ৫৫ জন প্যালেস্টাইন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ৩৭ জন গাজার বাসিন্দা। এহেন সংঘাতময় পরিস্থিতিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের মতো দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও কানাডার মতো ৩ দেশের প্যালেস্টাইনকে স্বীকৃতি দেওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। ইতিমধ্যে পৃথিবীর ১৫০ দেশ প্যালেস্টাইনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ব্রিটেনের তরফে এই সিদ্ধান্ত তাঁদের বিদেশ নীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বলেই মনে করা হচ্ছে। এক্স-হ্যান্ডেলে এক এক ভিডিও বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার বলেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভয়াবহতার মুখে আমরা শান্তি এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কাজ করছি।’
‘স্বাধীন ও সার্বভৌম’ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কানাডার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটি করার মাধ্যমে, অস্ট্রেলিয়া প্যালেস্টাইনের জনগণের নিজস্ব রাষ্ট্রের বৈধ এবং দীর্ঘস্থায়ী আকাঙ্ক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সালের নৃশংসতার শিকার পণবন্দিদের মুক্তি থেকে শুরু করে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের জন্য নতুন গতি আনতে চেয়ে যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চলছে, এই পদক্ষেপ তার অনুকূলে কাজ করবে।’
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক্স হ্যান্ডলে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইন দুই দেশের ভবিষ্যত শান্তির লক্ষ্যে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাই কানাডা প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। ’
তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েলি সরকার, গাজায় আটক পণবন্দিদের পরিবার। তাদের বক্তব্য, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমাদের অস্তিত্বকে বিপন্ন করবে এবং সন্ত্রাসবাদে মদত হিসেবে কাজ করবে।”




