খবর লাইভ : নবান্ন অভিযান ঘিরে শনিবার দুপুরে পার্ক স্ট্রিট মোড় রূপ নেয় রণক্ষেত্রে। ব্যারিকেড ভেঙে এগনোর চেষ্টা করতেই পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, চলে লাঠিচার্জ। মুহূর্তেই এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। সংঘর্ষের জেরে থমকে যায় যান চলাচল, আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এ দিন বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দেন। বিধানসভা থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল, শঙ্কর ঘোষ, অশোক দিন্দা সহ একাধিক বিজেপি বিধায়ক। যদিও এদিনের মিছিলে দলীয় পতাকা দেখা যায়নি। শুভেন্দু আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যেখানে আটকানো হবে, সেখানেই বসে পড়ব।
শেষ পর্যন্ত পুলিশের বাধার মুখে পড়ে পার্ক স্ট্রিট মোড়েই বসে পড়েন শুভেন্দু ও তাঁর অনুগামী বিধায়করা। আশপাশে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। জহরলাল নেহরু রোড দিয়ে নবান্নের দিকে এগোতে চাইলে ফের ব্যারিকেডে আটকে যায় মিছিল। পথ পরিবর্তনের চেষ্টা করেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে পুলিশ, তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি।
শুভেন্দু অধিকারী এ দিন পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, নির্যাতিতার বাবা-মাকে মারা হয়েছে। বিজেপি বিধায়কদের ওপর হামলা হয়েছে। আমি নিজেও মার খেয়েছি। এখানে অন্তত ১০০ জন আহত। এখন আর এটা বিজেপির আন্দোলন নয়, এটা বাংলা বনাম মমতার লড়াই।
এদিকে, শুধু পার্ক স্ট্রিট নয় হাওড়া ময়দান ও সাঁতরাগাছিতেও ছড়িয়েছে উত্তেজনা। বিক্ষোভকারীদের রুখতে একাধিক জায়গায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড, মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে এই এলাকাগুলো থেকেও।
নবান্ন অভিযানের জেরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে যানজট তৈরি হয়েছে, সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হলেও আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিবাদ চলবে যতক্ষণ না “ন্যায়” মেলে।




