International Special News Special Reports

শেষ হল আর্মেনিয়া–আজারবাইজানের চার দশকের দ্বন্দ্বের অধ্যায়

0
(0)

খবর লাইভ : হোয়াইট হাউসে এক ঐতিহাসিক সাক্ষাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ও আজারবাইজানের রাষ্ট্র সভাপতি ইলহাম আলিয়েভ একটি শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। উভয় দেশের মধ্যে প্রায় ৩৫–৪০ বছরব্যাপী চলা সংঘর্ষ এভাবেই বন্ধ হল।

চুক্তির প্রধান উপাদান

উভয় পক্ষ ‘সবরকমের বিদ্বেষ বন্ধ’, ‘সাংঘাতিক সব যুদ্ধের ইতিহাস শেষ’ এবং ‘একে অপরের সার্বভৌমত্ব’ স্বীকার করেছে।জানা গিয়েছে, একটি নতুন ট্রানজিট করিডোর তৈরি করা হবে, যা আজারবাইজানকে তার  এনাখচিভান অঞ্চলের সাথে সংযুক্ত করবে। এটি ৩২‑৪৩ কিমি দীর্ঘ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ উন্নয়ন অধিকার থাকবে, যদিও আইনগত কর্তৃত্ব থাকবে আর্মেনিয়ার।

উভয় দেশ ওএসসিই –এর অবসান দাবি করেছে, যা দীর্ঘ দিন ধরে এই দ্বন্দ্বের আন্তর্জাতিকভাবে মধ্যস্থতা করতো।

আমেরিকার সঙ্গে দুই দেশের পৃথক অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও এনার্জি জোট সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব

ট্রাম্প এই শান্তি চুক্তিকে তার প্রশাসনের অন্যতম বড় কূটনৈতিক সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন এবং ৩৫ বছর যুদ্ধের পর এখন বন্ধুত্ব বলে মন্তব্য করেছেন।

এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে সকলকে সুখবর দেন ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে লিখতে দেখা যায়, এই দুই দেশ আর্মেনিয়া-আজারবাইজান বহু বছর ধরে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত। যার জেরে হাজার হাজার সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বহু দেশের নেতা এই যুদ্ধ থামাতে অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্তু কেউই এখনও সফল হননি। অবশেষে আমরা সফল হলাম।

আলিয়েভ এই চুক্তিকে গর্ব আর কৃতজ্ঞতার দিন এবং শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যতের ভিত্তি হিসেবে দেখেন।

পাশিনিয়ান বলছেন, এই পথেই আমরা অতীতকে ছাড়িয়ে একটি নতুন গল্প লিখতে যাচ্ছি।

অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এই চুক্তি রাশিয়ার প্রভাবশালী ভূমিকা কেড়ে নিয়েছে এবং দক্ষিণ ককেশাসে মার্কিন প্রভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।

এই শান্তি চুক্তি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ যা সমস্যার দীর্ঘ ইতিহাসকে অতিক্রম করে রাজনৈতিক আধুনিকীকরণ ও দক্ষিণ ককেশাসে অর্থনৈতিক সংযুক্তির পথ সুগম করতে পারে। তবে, অঞ্চলটির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে রাজনীতিক, মানবাধিকারমূলক এবং সাংবিধানিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনও চ্যালেঞ্জের সামনে। ভবিষ্যতে তা কার্যকর হবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *