খবর লাইভ : অভিশপ্ত সেই রাত, ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট। আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সেমিনার হলে বর্বরভাবে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল এক তরুণী কর্তব্যরত চিকিৎসককে। সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও সম্পূর্ণ বিচার হয়নি বলে ক্ষোভে ফুঁসছে রাজ্যজুড়ে চিকিৎসক মহল ও নাগরিক সমাজ।
এই ঘটনার বর্ষপূর্তিতে শুক্রবার রাতে ‘রাত দখল’ কর্মসূচির ডাক দেয় ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। রাতে কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হয় মশাল মিছিল, গন্তব্য ছিল শ্যামবাজার। মিছিলে অংশ নেন শতাধিক জুনিয়র চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ। এরপর রাতভর অবস্থান চলার পর শনিবার সকালে পালন করা হয় রাখিবন্ধন কর্মসূচি।
এদিনই অন্যদিকে, ন্যায়বিচারের দাবিতে নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছেন নির্যাতিতার মা ও বাবা। তাঁরা অভিযোগ করেন, এক বছরের মধ্যেও ঘটনার প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীরা অধরাই রয়ে গেছে। অভিযানে সমর্থন জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ বিজেপি নেতৃত্ব।
তবে এই অভিযানে আপত্তি জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশ। বিকল্প হিসেবে তারা প্রস্তাব দিয়েছে সাঁতরাগাছি বাসস্ট্যান্ড কিংবা রানি রাসমণি চত্বরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহারের।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়ও চলছে প্রতিবাদ। মেদিনীপুরে বাম ছাত্র-যুব সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে মিছিল বের হয়। মালদা মেডিকেল কলেজে জুনিয়র ডাক্তাররা দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান।
কলকাতার মূল কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আরজি কর আন্দোলনের মুখ অনিকেত মাহাতো, দেবাশিস হালদার ও আসফাকুল্লা নাইয়া। তাঁরা জানান, “এই আন্দোলন থামবে না, যতদিন না অভয়ার প্রকৃত হত্যাকারীরা শাস্তি পাচ্ছে।”
সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে অভয়ার বাবা বলেন, সিবিআই বলছে, আমরা চারদিন পরে মামলা হাতে পেয়েছি। সেই চারদিনে সমস্ত প্রমাণ মুছে ফেলা হয়েছে। দিল্লি ও সিবিআই দফতরে গিয়ে আমরা জানতে পারি, ৯৩টি ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। সেই রিপোর্টেই সব উত্তর রয়েছে।
অভয়ার মায়ের অভিযোগ, আরজি কর হাসপাতালের ভেতরেই লুকিয়ে রয়েছে দোষীরা। সিবিআইকে ‘তোতাপাখির মতো’ বলিয়ে দেওয়া হচ্ছে সঞ্জয় রায় ছাড়া আর কেউ জড়িত নয়। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন, আমাদের মেয়েকে খুন করল কে? একা সঞ্জয় কি পারে এমন নৃশংস কাজ করতে?”
প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে সঞ্জয় রায়কেই গ্রেফতার ও সাজা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিবার ও চিকিৎসক মহলের একাংশের মতে, সঞ্জয় শুধুমাত্র একজন মুখ। প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও অধরাই থেকে গেছে। তারা প্রশ্ন তুলছে এক বছরের মাথায়ও যদি পূর্ণ সত্য উদঘাটিত না হয়, তবে বিচার কোথায়?
নাগরিক সমাজের বক্তব্য, এই ঘটনায় বিচার এখনও অসম্পূর্ণ। অভয়ার জন্য ন্যায়বিচার চাই, এ দাবিতে আন্দোলন চলবেই।




