খবর লাইভ : আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ চত্বর থেকে উদ্ধার হওয়া তরুণীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত পরিবার। গত বছর ৮ আগস্ট রাতে কলেজ চত্বরে তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তার দেহে একাধিক আঘাত ও যৌন হেনস্তার স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। এই ঘটনায় গোটা রাজ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে দীর্ঘ একবছর কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্তদের শাস্তি হয়নি বলে অভিযোগ তুলছে পরিবার ও সমাজকর্মীরা।
শুক্রবার ঘটনার একবছর পূর্তিতে কলকাতার রাজপথে দেখা গিয়েছে প্রতিবাদের ঢল। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ মিলে মৌন মিছিল, প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানের মাধ্যমে সরকারের ভূমিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, ঘটনার তদন্তে পুলিশের গাফিলতি ছিল এবং এর সুষ্ঠু তদন্তের জন্য এখন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মিছিল থেকে বারবার উঠে এসেছে প্রশ্ন – এক বছর কেটে গেল, কিন্তু বিচার কোথায়?, “নারী নিরাপত্তা কোথায়? মৃত তরুণীর পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁরা এখনও ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছেন। তরুণীর মায়ের কণ্ঠে বিষাদ, আমার মেয়ে ফিরবে না, কিন্তু যারা ওকে নৃশংসভাবে মারল, তাদের বিচার চাই। এখন শুধু একটাই আশা সিবিআই তদন্ত।
এদিকে, রাজ্য সরকার বা পুলিশের তরফ থেকে এই প্রতিবাদে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। যদিও তদন্তে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তবুও মূল ষড়যন্ত্রকারী ও ধর্ষণকারীরা ধরা পড়েনি বলেই অভিযোগ।
নাগরিক সমাজের একাংশ বলছে, এই ঘটনাটি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নারী সুরক্ষার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছে। তাঁরা চাইছেন, এই ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে সমাজে কড়া বার্তা দেওয়া হোক।
৯ আগস্ট অর্থাৎ আগামিকাল আরজি কর-কাণ্ডে মৃত চিকিৎসকের পরিবার ‘নবান্ন অভিযান’-এর ডাক দিয়েছে। রাজ্য সচিবালয় অভিমুখে এই পদযাত্রায় শামিল হওয়ার জন্য সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে। নিহত চিকিৎসকের বাবার অভিযোগ, সবাই পাশে থাকার বার্তা দিলেও লড়াইটা আমাদের একার। আমাদেরই বিচার ছিনিয়ে আনতে হবে। তবে সিবিআই অনেক কিছুই আড়াল করার করার চেষ্টা করছে।
ঠিক এক বছর আগে কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মস্থলেই ধর্ষণ ও খুনের শিকার হয়েছিলেন এক তরুণী চিকিৎসক। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও ন্যায় বিচারের আশায় নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা। পাশাপাশি তাঁরা আজ অনেকটাই ক্লান্ত, বিষন্ন। বুধবার দিল্লি গিয়ে নির্যাতিতার পরিবার দেখা করেন সিবিআই ডিরেক্টরের সঙ্গে। তদন্ত নিয়ে তাঁদের একরাশ অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন।




