খবর লাইভ : চলতি বছরে আমেরিকা থেকে ভারতে অপরিশোধিত তেল আমদানি নজিরবিহীন হারে বেড়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আমেরিকান তেল আমদানি গত বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ছয় মাসে প্রতিদিন গড়ে ২.৭১ লক্ষ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে ভারত, যেখানে গত বছর একই সময়ে আমদানি ছিল দৈনিক ১.৮ লক্ষ ব্যারেলের কাছাকাছি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র জুন ও জুলাই মাসের তুলনাতেই দেখা গেছে, আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ২৩ শতাংশ। ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানিতে মার্কিন তেলের অংশীদারিত্ব একসময় যেখানে মাত্র ৩ শতাংশ ছিল, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ শতাংশে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় ফেরার পর ২০ জানুয়ারি থেকেই এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং আমেরিকার সঙ্গে কৌশলগত বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করতে উদ্যোগ নিয়েছে দিল্লি। শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, এলপিজি এবং এলএনজি-র মতো অন্যান্য জ্বালানি গ্যাসের আমদানিতেও বড়সড় বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এলএনজি আমদানির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত, যার আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে। তবে ট্রাম্প এই রাশিয়ার উপর নির্ভরতা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে গেলে ভারতকে গুণতে হবে বাড়তি খরচ বা জরিমানা।
তবে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির বহুমুখী উৎস বজায় রাখতে ভারত একসঙ্গে রাশিয়া ও আমেরিকা দুই দিকেই নজর রাখছে।




