খবর লাইভ : সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জেরে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ হওয়া ২৫,৭৫২টি চাকরি বাতিল হওয়ার পরে এবার প্রাথমিক স্তরের ৫৩,০০০ চাকরি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আইনজীবীদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, এবার লক্ষ্য হতে পারে ২০১৬ ও ২০২০ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশ বদলে দিয়ে বলেন, শিক্ষকরা আপাতত কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, তবে পরবর্তীতে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে। কিন্তু বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের নির্দেশ খারিজ করে আবারও মামলাটি হাইকোর্টে ফেরত পাঠায়। বর্তমানে বিচারপতি সৌমেন সেন ও সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলা চলমান, যদিও বিচারপতি সেন সম্প্রতি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।
আইনজীবীরা বলছেন, এসএসসি মামলার মতোই প্রাথমিকের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও একাধিক গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই নেই কোনও OMR শিট, নেই প্যানেল প্রকাশ, নেই নম্বরের ব্রেক-আপ। ২০১৬ সালে ৪২,৯৪৯ এবং ২০২০ সালে ১৬,৫০০ জন নিয়োগপ্রাপ্ত, এই দুটি প্রক্রিয়াই এখন প্রশ্নের মুখে।
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের দাবি, তারা নম্বর প্রকাশের নিয়মে বাধ্য নয়। এমনকি তারা আদালতের নির্দেশে লিস্ট প্রকাশ করেও পরে তা ‘ত্রুটিযুক্ত’ বলে জানায়। আইনজীবীরা বলছেন, এটা স্পষ্টভাবে অনিয়ম এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
স্কুল সার্ভিস কমিশনের রায়ের পরে বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার ছায়া এবার প্রাথমিক স্তরেও পড়তে শুরু করেছে। আদালতের ভবিষ্যৎ নির্দেশের উপর নির্ভর করছে হাজার হাজার পরিবারের ভাগ্য।




