Special News Special Reports State

নিজের নৌকায় মৃতদেহ বহন করে সৎকার করলেন সাকিম

0
(0)

খবর লাইভ : খানাকুলের ভূমিপুত্র তথা ভারতের অন্যতম সংস্কারক ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। যিনি সতীদাহ প্রথা রদ করার জন্য সমাজের একটা বড় অংশের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন লড়াই চালিয়েছিলেন। লড়াই চালিয়ে তিনি সাফল্যও পেয়েছিলেন। রামমোহনের খানাকুলেই যেন তাঁর শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছেন আরও এক সমাজসেবী। এবারের ভয়াবহ বন্যায় শোচনীয় অবস্থা হুগলির খানাকুলের মানুষের। বহু মানুষ ভিটে মাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। মুখে দু মুঠো অন্ন কীভাবে জুটবে, তা নিয়ে যখন চিন্তায় তখন অবশ্য তাঁদের সাহায্যার্থে এগিয়ে এলেন খানাকুলের সেই জনদরদী মানুষ শেখ সাকিম। করোনাকালেও যাঁকে মানুষকে সাহায্য করতে দেখা গিয়েছিল। এবারের বন্যায় অবশ্য তাঁকে একাধিক ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। এবারের বন্যায় নিজের বাড়িও ডুবে গেছে সাকিমের। কিন্তু তারপরেও মানুষকে সাহায্য থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেননি। খানাকুলের উদনা গ্রামের বাসিন্দা সাকিম এবারের বন্যায় যেমন বিভিন্ন ক্যাম্পগুলোয় রান্না করে বন্যা কবলিত মানুষকে খাইয়েছেন পাশাপাশি নিজের নৌকো করে গ্রামে গ্রামে বন্যা দুর্গতদের ত্রিপল, জল, শুকনো খাবার, বিস্কুট, বাচ্চাদের দুধ সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী দান করেছেন। শুধু তাই নয়, খানাকুল এলাকায় তাঁর পরিচিত বেশ কিছু মানুষের বাড়িতেও বন্যা পীড়িতদের আশ্রয় দিতে পেরেছেন।

এছাড়াও খানাকুলের মৃত মানুষকে দাহ করার ব্যবস্থা করিয়েছেন। বন্যায় খানাকুলের বহু শ্মশান জলমগ্ন থাকায় সাকিম তাঁর নিজের নৌকা করে মৃত ব্যক্তিকে বহন করে দাহ করেছেন। এলাকার লোকজনের কাছে তিনিই যেন রামমোহনের আর একটা রূপ। খানাকুলের বাসিন্দা নরেশ মাটি বলেন, ‘এবারে বন্যায় উনি যা মানুষের সেবা করেছেন আমরা কেউ ভুলতে পারবো না। খাবার, পানীয় জল থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুই উনি মানুষকে দিয়েছেন। পাশাপাশি মরা মানুষের দাহ করেছেন। এই ধরনের মানুষগুলো আছেন বলেই আজকে আমরা বেঁচে আছি।’
সাকিম অবশ্য নিজের তারিফ শুনতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি মাত্র। আগামী দিনেও এই ভাবেই মানুষের সাহায্য করে যাব।’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *