খবর লাইভ : বেআইনি বহুতল ভেঙে গার্ডেনরিচে মৃত্যু হয়েছিল বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষের। তারপরই প্রশ্ন উঠেছিল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সোচ্চার হয় বিজেপি, সিপিএম সহ বিরোধী দলগুলি। তারপরই অবশ্য কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। পাশাপাশি জেলাগুলোর ক্ষেত্রেও বেআইনি নির্মাণ রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয় নবান্ন থেকে।
আরও পড়ুনঃ বেনজির পদক্ষেপ রাজভবনের, সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে ‘জনতার দরবারে’ রাজ্যপাল
কলকাতার পর এবার হুগলি এবং হাওড়াতেও বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করতে কড়া সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে প্রশাসন। এই দুটি জেলার বিভিন্ন জায়গায় গত সাত-আট বছরে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ গেলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এবার বিগত বছরগুলিতে যে সমস্ত বেআইনি নির্মাণ হয়েছে সেগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে হুগলি এবং হাওড়া জেলা প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার বাঁকড়া, উলুবেড়িয়া, শ্যামপুর, ডোমজুড়, বড়গাছিয়া, জগৎবল্লভপুর, মুন্সিরহাট সহ বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক বেআইনি নির্মাণ গত ছয়- সাত বছরে হয়েছে। পুকুর, ডোবা, খাল ভরাট করে সেই বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। যার ফলে নিকাশি ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে হুগলির ডানকুনি, মশাট, জাঙ্গিপাড়া, সীতাপুর, নবাবপুর, ভগবতীপুর, খানাকুল, আরামবাগে একাধিক খাল, ডোবা এবং পুকুর বুজিয়ে বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠেছে। বর্ষাকালে চরম অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। প্রশাসন তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই সমস্ত বেআইনি নির্মাণগুলির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার। সঠিক কাগজপত্র দেখাতে না পারলে অভিযুক্ত প্রমোটারকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি ওই বেআইনি নির্মাণগুলো ভেঙে ফেলারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
হুগলি জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘বহু জায়গাতেই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে অভিযোগ আসে। আমরা সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরকে নির্দেশ দিই। অনেক সময় তারা ভুল তথ্য আমাদের কাছে পেশ করে বলে জানতে পেরেছি। জাঙ্গিপাড়ার সীতাপুর, ভগবতীপুর, ডানকুনির কয়েকটি বেআইনি নির্মাণ ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা গিয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা দ্রুত নেব। বাকি সব অভিযোগেরও দ্রুততার সঙ্গে খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।’




