খবর লাইভ : সন্দেশখালির ত্রাস শেখ শাহজাহান জেলে থাকলেও তাঁর দোসররা অবশ্য এখনও বিভিন্ন জায়গায় বিরাজমান। তাই তো এখনও বেশ কিছু জায়গায় মানুষের উপরে অত্যাচার জারি থাকলেও তৃণমূল দল অবশ্য সেই সকল শাহজাহানদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারেনি। যার প্রতিফলন অবশ্য লোকসভা ভোটে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
খাপ পঞ্চায়েত উঠে গেলেও এখনও পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় খাপ পঞ্চায়েত রয়ে গিয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে হুগলির জাঙ্গিপাড়ার রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতও। যেখানে এখনও সালিশি সভার মাধ্যমে বেআইনিভাবে অন্য মানুষকে ওয়ারিশন সার্টিফিকেট দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, পঞ্চায়েতের ভিতর এখনও সিন্ডিকেটরাজ চলে বলে এলাকাবাসীদের দাবি। কিছুদিন আগেই খবর লাইভের সম্পাদক পীযূষ চক্রবর্তীর ভিটের মাঝখান দিয়ে বেআইনিভাবে রাস্তা করে হুগলি জেলা পরিষদ। যে রাস্তা করার আগে জেলা পরিষদ অবশ্য স্থানীয় পঞ্চায়েতের কাছ থেকেই প্রপোজাল অর্ডার পেয়ে থাকে। জমি অধিগ্রহণ আইনে বলা আছে, কারও ভিটের (বাস্তু) মাঝখান দিয়ে কোনওরকম রাস্তা যেমন করা যায় না তেমনই কারও ব্যক্তিগত জায়গায় রাস্তা করতে গেলে প্রথমে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিতে হয়। ইচ্ছুক ব্যক্তির মতামত নিতে হয়। তাঁরা কি কোনও ক্ষতিপূরণ চাইছেন কিনা তাও জানা হয়। কিন্তু হুগলি জেলা পরিষদ এর কোনও কিছুই করেনি। তবে পঞ্চায়েত কীভাবে এই রাস্তা করার ছাড়পত্র দিল তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
আরও পড়ুনঃ অধীর গড়ে নাড্ডার নিশানায় তৃণমূলের দুর্নীতি
শিক্ষা দেয় মানুষকে আলো, সরকার বার বার মানুষকে শিক্ষিত হওয়ার আবেদন করে। কিন্তু সেই সরকারের অধীনে থাকা পঞ্চায়েতের প্রধানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। প্রধান যদি সেভাবে শিক্ষিত না হন তাহলে তিনি যেমন আইন সম্পর্কে কোনও কিছুই বুঝতে পারবেন না তেমনই ভুলভাল সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়ে সরকার এবং দলকে বিড়ম্বনায় ফেলবেন। অন্য কারো পরামর্শ নিয়ে মানুষের বিরুদ্ধে ভুলভাল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন। আদালতের কাছে সরকারকে ভৎসনার মুখে ফেলবেন। এক্ষেত্রেও পীযূষের ভিটের উপর দিয়ে যেভাবে ১০ ফুট চওড়া রাস্তা হয়েছে তাতে তিনি বা তাঁর পরিবার হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে যেমন প্রশাসন ঠুঁটো হয়ে থাকে এক্ষেত্রেও পীযূষ বার বার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনও সুরাহা পাননি।
রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা সন্দেশখালির থেকে কোনও অংশে কম নয়। এখানে ১০০ দিনের কাজে যেমন চরম দুর্নীতি হয়েছে তেমনই শৌচাগার নির্মাণ, সরকারি গৃহ নির্মাণ, রাস্তাঘাট ও নিকাশি ব্যবস্থাতেও চরম দুর্নীতি দেখা যাচ্ছে। প্রশাসন অবশ্য এখনও সেভাবে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এই পঞ্চায়েতের রসপুরে একের পর এক ডোবা ভরাট হয়ে বেআইনি নির্মাণ হলেও প্রশাসন যেন অন্ধ হয়ে রয়েছে।
শুধু তাই নয়, বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়ার যে কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হয়েছে তা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সাংবাদিক পীযূষ জাঙ্গিপাড়ার বিডিও-কে বিষয়টি লিখিতভাবে জানালেও এখনও কোনও সদুত্তর মেলেনি। বহু গরিব মানুষ শৌচাগার ও সরকারি আবাস যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি জাঙ্গিপাড়ার বিডিও অরিজিৎ দাস খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিশ্বজিৎ দাস দাবি করেছেন, তিনি রাস্তার বিষয়টি জানতেন না। বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।




