Special News Special Reports State

প্রতি মাসে ডাক মাস্টারকে ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা দিয়ে জুয়ার আসর চালানো হয়, দাবি জুয়া কারবারির

0
(0)

খবর লাইভ : বীরভূমের বগটুইয়ে তৃণমূল নেতা ভাদু শেখ খুনের ঘটনার তদন্ত সিবিআই না করলে জানাই যেত না একজন ডাক মাস্টারের প্রতি মাসে উপার্জন কত টাকা হতে পারে। পাথর এবং বালির অবৈধ কারবার বৈধতা পেয়েছিল ভাদুর হাত ধরেই দাবি সিবিআইয়ের। ওই অবৈধ কারবার বৈধ করার কারণে ভাদু শেখের সম্পত্তি ফুলেফেঁপে উঠেছিল। এবার জাঙ্গিপাড়ার ডাক মাস্টার সুদীপ্ত দে-ও যেন ভাদু শেখেরই আর এক রূপ বলে এলাকাবাসীদের অভিযোগ। তাই তো জুয়ার কারবার অবৈধ হলেও জাঙ্গিপাড়ার ডাক মাস্টার সুদীপ্তর হাত ধরে তা বৈধতার রূপ পাচ্ছে, এমনই দাবি এক জুয়া কারবারির। বিনিময়ে ওই ডাক বাবুকে দিতে হয় প্রতিমাসে ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা। এলাকার লোকজনের চরম ক্ষতি হলেও প্রশাসন ওই মারণ কারবারের বিরুদ্ধে সক্রিয়তা দেখাবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। আর তাই তো বারবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হলেও জাঙ্গিপাড়া দিলাকাশ ও আঁটপুরের কুমোরবাজার এলাকায় রমরমিয়ে চলে জুয়ার কারবার। আর এই সর্বনাশা ব্যবসার সক্রিয়তার কারণে দিনে দিনে তৃণমূলের প্রতি মানুষের আস্থা কমছে। আসন্ন লোকসভা ভোটে যার প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা তৃণমূলের একাংশের। বেআইনি জুয়া এবং চোলাই মদের কারবার জাঙ্গিপাড়ায় বেড়ে যাওয়ায় যার প্রভাব ফুরফুরার মাদ্রাসা স্কুলের পরিচালন কমিটির ভোটে পাওয়া গিয়েছে। আইএসএফ ও সিপিএমের কাছে পরাস্ত হতে হয়েছে রাজ্যের শাসক দলকে। তারপরেও বন্ধ হয়নি জুয়ার কারবার।

আরও পড়ুনঃ সরকারি ভবনের রং বদল নিয়ে মোদিকে চিঠি মমতার

আর এই জুয়ার কারবার জাঙ্গিপাড়া ডাক মাস্টারের মদতেই চলছে বলে দাবি করেছে জুয়া কারবারি বিমল। বিমল দাবি করেছে, প্রতিমাসে ডাক মাস্টারকে ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা করে দিতে হয়। আর সেই কারণেই পুলিশের কোনোরকম বাধা নেই। প্রতিদিন বেদারুল নামে এক সিভিল ভলেন্টিয়ার সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা করে নিয়ে যায়। আঁটপুর এবং দিলাকাশ দুই জায়গায় মিলিয়ে মোট ১১ হাজার টাকা প্রতিদিন দিতে হয় ডাক মাস্টারকে।
সুদীপ্তকে ফোন করা হলে তিনি বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখান। বেদারুল অবশ্য ফোন ধরেননি। হুগলি গ্রামীণ পুলিশের সুপার কামনাশিস সেন পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এর আগেও পুলিশ সুপার বারবার জাঙ্গিপাড়া থানাকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। থানা অবশ্য তাঁর সেই আদেশ মানছেই না বলে অভিযোগ। খোদ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর এলাকাতেই এই বেআইনি কাজের রমরমায় স্বাভাবিকভাবেই বেশ কিছুটা বিপাকে যে রাজ্যের শাসক দল পড়বে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এদিকে জাঙ্গিপাড়া থানার কয়েকজন সিভিক ভলেন্টিয়ারের বিরুদ্ধে আয় বহির্ভূত সম্পত্তির তদন্ত চেয়ে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখায় অভিযোগ জমা পড়েছে।
এক সময় ২০১৭ থেকে ২০২০ পর্যন্ত হুগলির খানাকুল, গোঘাট, পুরশুরা থানার বিস্তীর্ণ এলাকায় রমরমিয়ে চলত জুয়া, সাট্টার কারবার চলতো। যার প্রভাব ২০২১ বিধানসভা ভোটে হাতেনাতে পেয়েছে তৃণমূল। ওই তিনটে আসনেই হারতে হয়েছে রাজ্যের শাসক দলকে। যদিও পরে যে ওই কারবার চালাত সেই সিরাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আরামবাগ, খানাকুল গোঘাট, পুরশুরায় সাট্টা ও জুয়ার কারবার বন্ধ হলেও এখন জাঙ্গিপাড়া যেন জুয়া কারবারিদের কাছে স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে।
একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের দুজন নেতার সঙ্গে শ্রীরামপুরে গোপনে বৈঠক করেন দুই সিভিক ভলেন্টিয়ার। তাঁদের পরামর্শেই তৃণমূলকে বিপাকে ফেলতে একের পর এক বেআইনি কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে বিরোধীরা রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাতে যেতে পারে।
এদিকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রমাণ সহ হাই কোর্টে মামলা করার কথা জানিয়েছেন।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *