National Special News Special Reports

তিস্তায় নদী গর্ভ থেকে উঠে এল ৪ সেনা সহ ১৮ দেহ

0
(0)

খবর লাইভ : ঝুলছে বাড়ি, গিলছে শেষ সম্বল। সিকিমের মেঘ ফাটা বৃষ্টিতে তিস্তায় হড়পা বান। ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও তিস্তার গ্রাস কমছে না বহু এলাকায়। দুর্যোগ সামান্য কমে তিস্তার জলস্তর কমতেই ভেসে উঠছে একের পর এক মৃতদেহ। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির তিস্তার চর ও সন্ধেবেলা ময়নাগুড়ি থানা এলাকার নানা জায়গা থেকে মোট ১৮টি দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এর মধ্যে চার জন সেনা জওয়ানও রয়েছে। বাকি ১৪ দেহ সাধারণ মানুষের। মৃতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। দেহগুলিকে উদ্ধারের পর জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের মর্গে নিয়ে আসা হয়েছে।
অন্যদিকে, এখনও রাতের ঘুম নেই কালিম্পং জেলার তিস্তা বাজার, মল্লি ও মংপো এলাকার। তিস্তার জল কমলেও এখনও দুই পাড় ক্রমশ ভাঙছে। তাতেই একের পর এক বাড়ি তিস্তা গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। এই এলাকাগুলিতে গিয়ে দেখা গেল প্রচুর বাড়ির নীচ থেকে মাটি ধসে গিয়ে। রীতিমতো বাড়িগুলি ঝুলছে। আবার কোথাও হারিয়ে গিয়েছে পাহাড়ের গাড়ি চালকদের গাড়ি। তিস্তার মধ্যে ৭-৮ ফুট মাটির নীচে চাপা পড়ে রয়েছে গাড়িগুলি। পলি সরতেই বেরিয়ে আসছে গাড়ি। উদ্ধার হচ্ছে মৃতদেহও। কীভাবে আবার সব ঠিক হবে সেই চিন্তায় তিস্তা বাজার, মল্লি এলাকার বাসিন্দারা।
তিস্তায় হড়পা বানে সিকিমে তো বটেই এই রাজ্যের কালিম্পং জেলার মধ্যে থাকা এলাকাগুলিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিস্তা বাজার এলাকায় গেলে তিস্তার অভিশাপ দেখা যাচ্ছে। সেখানে তিস্তার জলে তলিয়ে গিয়েছে প্রায় ১৪ টি বাড়ি। এছাড়াও প্রচুর দোকান, বাসিন্দাদের গাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে তিস্তা। কিন্তু এত সবের পরেও তিস্তার থামার যেন কোনও লক্ষণই নেই। যেভাবে তিস্তার জলোচ্ছ্বাস রয়েছে তাতে এখনও দুপাশে ধস নামছে।
জাতীয় সড়কে ফাটল ধরছে। তিস্তা বাজারে একের পর দোকান ভেঙে তলিয়ে যাচ্ছে তিস্তায়। রাত জেগে এখন দুর্দশার দৃশ্য দেখছেন বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই তিস্তাবাজার সহ কালিম্পঙের বেশ কয়েক জায়গায় প্রশাসনের তরফে রিলিফ ক্যাম্প খোলা হয়েছে। যেখানে ঠায় নিয়েছেন কয়েকশো মানুষ। বৃহস্পতিবার থেকে এলাকাগুলিতে যাওয়া শুরু হয়েছে ত্রাণ সামগ্রী। জিটিএ চিফ এক্সিকিউটিভ অনীত থাপা, দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেছেন।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *