খবর লাইভ : শুক্রবারই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন স্বপ্নদীপের বাবা রামপ্রসাদ কুণ্ডু। সেই অভিযোগপত্রে তিনি খুনের অভিযোগ করেছিলেন। সঙ্গে লিখেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সৌরভ চৌধুরী সম্পর্কে কিছু কথা। পুলিশের কাছে জমা দেওয়া সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই যাদবপুরের প্রাক্তনী এবং হস্টেলের আবাসিক সৌরভকে গ্রেফতার করেছে যাদবপুর থানার পুলিশ।
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার খারুষা গ্রামে আদি বাড়ি সৌরভের। বাবা নিরুপ চৌধুরী পেশায় কৃষক। মা গৃহবধূ। সৌরভ বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। যাদবপুরে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় সৌরভ জড়িত, কিছুতেই যেন বিশ্বাস হচ্ছে না পাড়া-প্রতিবেশিদের। যদিও সৌরভের বাবা তাঁর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াতে জানিয়েছেন, দোষী প্রমাণিত হলে ছেলের শাস্তি তিনিও চান।
আরও পড়ুনঃ পুরোনো মামলায় জয়াপ্রদাকে ৬ মাসের জেলের সাজা আদালতের
সৌরভদের কৃষক পরিবারে আয় সামান্য। ভাঙাচোরা টালির বাড়ি। তা সত্ত্বেও ছেলেকে মানুষ করার একবুক আশা নিয়ে কলকাতায় পাঠিয়েছিলেন বাবা-মা। কারণ, ছোট থেকেই স্বভাবে শান্ত স্বভাবের সৌরভ অত্যন্ত মেধাবী। টেনপুর হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে। গত বছর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অঙ্কে এমএসসি পাশ করেন। WBCS দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। কিন্তু একনিমেষে সব শেষ।
ছেলের গ্রেফতারির খবর পেয়ে মাথায় বাজ পড়েছে সৌরভের বাবা-মায়ের। বিশ্বাস করতে পারছে না পরিচিতরাও।
এদিকে, আজ শনিবার কাকভোরে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন সৌরভের বাবা। তিনি জানান, “ছেলে অন্যের উপকারে সবসময় ঝাঁপিয়ে পড়ত। স্বপ্নদীপেরও পাশে দাঁড়ায় সে। কাউকে খুন করতে পারে ও ভাবতেই পারি না। ও নির্দোষ। সত্যি যদি কোনও দোষ থাকে তবে শাস্তি হোক।”
জানা গেছে, প্রথমে স্বপ্নদীপ বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে থাকার সুযোগ পায়নি বলেও অভিযোগপত্রে জানান রামপ্রসাদ। পুলিশকে তিনি আরও জানিয়েছেন, গত ৩ অগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে একটি চায়ের দোকানে তাঁর সঙ্গে সৌরভের আলাপ। আবাসিক না হয়েও ‘গেস্ট’ হিসাবে হস্টেলে যে থাকা যায়, সে কথা তিনি সৌরভের মাধ্যমে জানতে পারেন বলে দাবি করেছেন রামপ্রসাদ। তাঁর দাবি, সৌরভই মনোতোষ নামে আরও এক ছাত্রের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেন স্বপ্নদীপের। মনোতোষ থাকেন ১০৪ নম্বর রুমে। স্বপ্নদীপের থাকার ব্যবস্থা হয় ৬৮ নম্বর রুমে। রামপ্রসাদ অভিযোগপত্রে লিখেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়েরই দুই ছাত্র সৌরভ চৌধুরী (প্রাক্তন) এবং মনোতোষ মণ্ডল (সোশিওলজি, দ্বিতীয় বর্ষ)-এর মাধ্যমে আমার ছেলে হস্টেলের ৬৮ নম্বর ঘরে থাকার সুযোগ পায়। ঘরটি এ-২ ব্লকের তিন তলায়। ৬ অগস্ট থেকে ছেলে হস্টেলে থাকা শুরু করে।” মৃত ছাত্রের বাবা অভিযোগ করেছেন, শেষ বার স্বপ্নদীপ মাকে ফোন করে কেঁদে ফেলেছিলেন। পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন স্বপ্নদীপের বাবা রামপ্রসাদ।




