খবর লাইভ: সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে তৈরি হওয়া বিভিন্ন ছোট-ছোট দেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের কমবয়সি অনেক মহিলা দুবাই-সহ পশ্চিম এশিয়ায় বিভিন্ন পেশায় যুক্ত। মূলত পাঁচতারা হোটেলে নাচ-গানের আসরে সেখানে আসা ধনীদের অনেকের সঙ্গে এঁদের পরিচয়। এঁদেরই অনেকে আবার এই ধনীদের কালো টাকা রাখতে ‘ভাড়া দেন’ নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট।তাও আবার কমিশনের বিনিময়ে।
ইডি-র অভিযোগ, দুর্নীতির কালো টাকা রাখতে ওই সমস্ত মহিলার অ্যাকাউন্ট কমিশনের ভিত্তিতে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। ইডি সূত্রে দাবি, এ সব ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টের পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকে যিনি টাকা রাখছেন, তাঁর হাতে। ডেবিট কার্ড, চেকবই, ব্যাঙ্কের যাবতীয় নথি তাঁর জিম্মায়। এমনকি নেট-ব্যাঙ্কিংয়েও ওই অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড থেকে শুরু করে সব কিছু যিনি টাকা রেখেছেন, তাঁর নিয়ন্ত্রণে।
কিন্তু বেআইনি ভাবে এই টাকা রাখার ‘বহু পুরনো’ ব্যবসায় বিশ্বাসই যে মূল পুঁজি, তা স্পষ্ট বলছেন তদন্তকারী অফিসারেরা। ইডি সূত্রে দাবি, শুধু এ রাজ্যের এক-দু’জন ‘প্রভাবশালী’ নন, এ দেশ থেকে এই পন্থায় টাকা বিদেশে পাঠানোর উদাহরণ ভূরি-ভূরি।
এক ইডি কর্তার কথায়, “দুর্নীতির কয়েকশো কোটি টাকা তো নস্যি। বিশ্ব জুড়ে মাদক পাচারের যে চক্র চলে, যেখানে শ’য়ে শ’য়ে কোটি ডলারের কারবার হয়, সেখানেও তার একটি অংশ এ ভাবেই লেনদেন করা হয় বিভিন্ন দেশের অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে।”
লন্ডনবাসী রুশ ‘বান্ধবীর’ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এ রাজ্যের এক ‘প্রভাবশালী’র কালো টাকার ‘খোঁজ মেলার’ অভিযোগ ইতিমধ্যেই উঠেছে ইডি সূত্রে। সেই তদন্তে আরও এক ধাপ এগিয়ে এ বার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটির অভিযোগ, একা ওই রুশ ‘বান্ধবীর’ কাছে নয়, ‘প্রভাবশালী’র দুর্নীতির টাকা পাচার হয়েছে আরও অন্তত জনা পনেরো বিদেশিনির অ্যাকাউন্টে। যাঁদের মধ্যে বেশ কয়েক জন ফিলিপিন্সের বাসিন্দা। তদন্তকারীদের দাবি, এই একই ধাঁচে টাকা রেখেছেন রাজ্যের আর এক ‘প্রভাবশালী’ও।
ইডি-র অভিযোগ, যে ‘প্রভাবশালী’র রুশ বান্ধবী-যোগের কথা ইতিমধ্যেই তারা জানিয়েছে, তাঁর টাকার একটি মোটা অংশ জমা পড়েছে হংকং, তাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স-সহ বেশ কয়েকটি দেশের অ্যাকাউন্টে। যাঁদের অ্যাকাউন্ট, পেশাগত পরিচয়ে তাঁরা অনেকেই মডেল। বেশির ভাগেরই জন্ম ফিলিপিন্স এবং সাবেক সোভিয়েট ইউনিয়ন ভেঙে তৈরি হওয়া বিভিন্ন দেশে।




