Special News Special Reports State

টানা দ্বিতীয় দিনও উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা, আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম

0
(0)

খবর লাইভ : ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্য মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা দ্বিতীয় দিনও উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। শনিবার সকাল থেকেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় চত্বর। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে চলছে বেনজির তাণ্ডব। একের পর এক গাড়িতে ভাঙচুর, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপর হামলা এবং রাস্তার ধারের দোকানপাট তছনছ করার অভিযোগ উঠল ক্ষিপ্ত জনতার বিরুদ্ধে। বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকলেও উত্তেজিত জনতাকে বাগে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।

জানা গিয়েছে, বেলডাঙার এক পরিযায়ী শ্রমিকের ঝাড়খণ্ডে খুন হওয়ার অভিযোগ ওঠে। শুক্রবার দেহ গ্রামে ফিরতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা। প্রথমে দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হলেও, ক্রমশ তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং হিংসাত্মক আকার ধারণ করে। শুক্রবারের রেশ ধরেই শনিবার সকাল থেকে ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়।

বিক্ষোভকারীরা আজ সকাল থেকেই ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখে। অভিযোগ, যথেচ্ছভাবে দু’দিকের গাড়ি আটকে দেওয়া হচ্ছে। দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক গাড়িতে ইট-পাথর ছোড়া হয়েছে এবং ভাঙচুর চালানো হয়েছে। জাতীয় সড়কের ধারে থাকা সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিও রেহাই পায়নি। পুলিশ বাধা দিতে গেলে তাদের সামনেই বিক্ষোভকারীরা আরও উগ্র হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই যে, খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ছেন সাংবাদিকরা। গতকালের মতো আজও আক্রান্ত হতে হয়েছে একাধিক সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিককে। ক্যামেরা ভাঙচুর ও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। সংবাদমাধ্যমের ওপর এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

গতকাল বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে গিয়েছিলেন বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। আজ পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। কিন্তু তাঁকেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। বিধায়কের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রীতিমতো তর্কাতর্কি শুরু হয়ে যায়। হুমায়ুন কবীর বারবার অবরোধ তুলে নেওয়ার আবেদন জানালেও, তাতে কর্ণপাত করেনি উত্তেজিত জনতা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বেলডাঙা থানার নাকের ডগাতেই এই দাপাদাপি চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। উল্লেখ্য, নির্বাচন বা অন্য কারণে জেলায় এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। কিন্তু এমন ভয়ংকর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পুলিশ কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ ও বিরোধীরা।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *