Special News Special Reports State

বিকাশ ভবনে সরকারি কর্তাদের সঙ্গে ইন্টারভিউ নিতেন কুন্তল !

0
(0)

খবর লাইভ : নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত কুন্তলের নয়া কুকীর্তি ফাঁস। ইডির দাবি, বিকাশ ভবনে খাস শিক্ষা দফতরের অফিসে বসে চাকরির পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের জন্যও ভুয়ো ‘ইন্টারভিউ’ নিতেন যুব নেতা কুন্তল ঘোষ স্বয়ং। সঙ্গে হাজির থাকতেন সরকারি কর্তারাও।আদতে ইন্টারভিউয়ের নামে হতো চাকরি বিক্রির টাকাপয়সা নিয়ে চূড়ান্ত কথাবার্তা। সেই পর্ব শেষে এসএসসি অফিস থেকে নিয়োগপত্র হাতে পেতেন অনুত্তীর্ণরা।

তদন্তকারীদের প্রশ্ন, একজন ডিএলএড কলেজের মালিক কীভাবে দিনের পর দিন বিকাশ ভবনে বসে এই কাজ চালিয়ে গেলেন? উত্তর খুঁজতে ইতিমধ্যে যুবনেতার সঙ্গে ইন্টারভিউতে বসা অফিসারদের তালিকা তৈরি করে ফেলেছে ইডি। শীঘ্রই সেই কর্তাদের বয়ান ভিডিও সমেত রেকর্ড করা হবে।
কিন্তু কীভাবে কুন্তল চাকরি বিক্রি সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য হয়ে ওঠেন, সেই তদন্তের জালও অনেকটাই গুটিয়ে এনেছেন তদন্তকারীরা।তাদের দাবি, শাসকদলের এক নেতার মাধ্যমে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কুন্তলের পরিচয়। এরপর ধীরে ধীরে তিনি নামের তালিকা পাঠাতে শুরু করেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীকে। কুন্তলের তালিকার প্রার্থীদের সিংহভাগই ছিল টেট, নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষক পদে চাকরি পেয়েছেন।
মেধা তালিকায় এই অনুত্তীর্ণরা ঠাঁই পাওয়ার বিষয়টি জানতে এজেন্টদের লাগাতার জেরা করেন ইডি অফিসাররা। আর সেখান থেকেই জানা যায় ‘ভুয়ো ইন্টারভিউ’ সংক্রান্ত এই নতুন তথ্য। কী জানা গিয়েছে? ইডির দাবি, পার্থবাবুর কাছে কুন্তল সহ অন্যরা যে তালিকা পাঠাতেন, সেই প্রার্থীদের ওএমআর শিটে কারচুপিতেই দুর্নীতি শেষ হয়নি। লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেছেন দেখানোর পর স্পেশাল ইন্টারভিউয়ের সিস্টেম ছিল তাঁদের জন্য। সেটি নিতেন কুন্তল। কার কবে ইন্টারভিউ হবে, তা এসএসসি অফিসে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসে ঠিক করা হতো। অভিযুক্তের পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত থাকতেন উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বিকাশ ভবনে কর্মরত মন্ত্রীঘনিষ্ঠ আধিকারিকরাও। সমস্ত কিছু চূড়ান্ত হওয়ার পর অনুত্তীর্ণ প্রার্থীদের মোবাইলে যেত ইন্টারভিউয়ের এসএমএস। কী কী নথি আনতে হবে, তারও উল্লেখ থাকত তাতে।নির্ধারিত দিনে বিকাশ ভবনে শিক্ষা দফতরের সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গেই হাজির থাকতেন কুন্তল। তদন্তকারীদের দাবি, এখানে টাকাপয়সা সংক্রান্ত ‘ডিল’ চূড়ান্ত করতেন অভিযুক্ত। সকলকে জানিয়ে দেওয়া হতো, চাকরি এবং পোস্টিংয়ের তথ্য। তারপর প্রত্যেককে এসএসসি অফিসে ডেকে ওই যুবনেতা হাতে হাতে নিয়োগপত্র দিতেন বলেও জানতে পেরেছেন অফিসাররা।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কোনও প্রার্থীর সার্টিফিকেটে গোলমাল থাকলে টাকার বিনিময়ে জাল শংসাপত্রও তৈরি করে দিতেন কুন্তল। এমনকী পছন্দমতো জায়গায় পোস্টিং দিয়েও কুন্তল বড় অঙ্কের টাকা নিতেন বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *