games Special News Special Reports

ফ্রান্সের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয় তিউনিসিয়ার

0
(0)

খবর লাইভ : প্রথম একাদশের ৯ জনকে বসিয়ে একটু বেশিই ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছিলেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়ার পর আজ তিউনিসিয়ার বিপক্ষে একাদশে বদল অনুমিতই ছিল। কিন্তু তাই বলে এতটা! আফ্রিকার প্রতিনিধিদের বিপক্ষে হেরেই সেই সিদ্ধান্তের মূল্য চুকিয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

তিউনিসিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরে গেছে ফ্রান্স। নতুন চেহারার ফ্রান্স দলের দুর্বল পারফরম্যান্সের সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ওয়াহবি খাজরি গোলটি করেন। তবে এই ম্যাচে নাটক কম হয়নি। যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে বদলি নেমে সমতা ফিরিয়েছিলেন আঁতোয়ান গ্রিজমান।

আরও পড়ুনঃ দালের মেহেন্দির ‘অবৈধ’ খামারবাড়ি সিল করল পুলিশ

কিন্তু ভিএআরে অফ সাইডে সেটি বাতিল হয়ে যায়। যদিও বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা অঘটন ঘটিয়েও তিউনিসিয়াকে বিদায়ই নিতে হচ্ছে। অন্য ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ডেনমার্ককে হারিয়ে দেওয়ায় কপাল পুড়েছে তিউনিসিয়ার। তবে ফ্রান্সের বিপক্ষে এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামের এই ম্যাচ ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে স্মরণীয় রোমাঞ্চ।

শুরু থেকেই ফ্রান্স দলে বোঝাপড়ার একটা সমস্যা বেরিয়ে আসছিল বারবার। সেই সুযোগ তিউনিসিয়ান ফরোয়ার্ডরা বারবার তাদের বক্সে হানা দিচ্ছিলেন। নাদের গানদ্রি, ফেরজানি সাসি, ওয়াহবি খাজরিরা ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিলেন ফ্রান্সের তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারদের।

দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ সৈনিক রাফায়েল ভারানে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছিলেন তিউনিসিয়ান আক্রমণের সামনে। ৮ মিনিটের মাথায় তিউনিসিয়া গোলও প্রায় পেয়ে গিয়েছিল। খাজরির ফ্রিকিক থেকে নাদের গানদ্রি গোল করলেও অফ সাইডে সেটি বাতিল হয়ে যায়। বাতিল হওয়া গোলটি যেন ছিল ফ্রান্সের জন্য সতর্কবার্তা। কিন্তু সেটিও নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারেনি দিদিয়ের দেশমের অনভিজ্ঞ খেলোয়াড়েরা। তিউনিসিয়া আক্রমণ করে গেছে। প্রথমার্ধে ফ্রান্সের গোলমুখে বেশ কয়েকবার গিয়েও আর গোল করতে পারেনি তারা।

ম্যাচের ২৫ মিনিটে তিউনিসিয়ার রক্ষণে হানা দিয়েছিল ফ্রান্স। সেটিই ছিল তাদের গোল হওয়ার মতো প্রথম আক্রমণ। ফ্রান্স প্রথমার্ধ কতটা চাপে ছিল, কতটা অগোছালো ছিল, সেটি বোঝা যাবে একটি পরিসংখ্যানেই। এই অর্ধে তিউনিসিয়ার গোলে মাত্র দুটি শট নিতে পেরেছে ফ্রান্স। ১৯৬৬ সালের পর এটি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে ফ্রান্সের সবচেয়ে কম শটের ইতিহাস এটি। গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের জন্য মরিয়া হয়েই আক্রমণে গেছে তিউনিসিয়া। সেটির ফল খুব দ্রুতই পেয়ে যায়। ৫৮ মিনিটের মাথায় তিউনিসিয়ার হয়ে ফ্রান্সের গোলমুখ খোলেন ওয়াহবি খাজরি। এই গোলের জন্য ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে পুরোপুরি দায়ী করা চলে। মধ্যমাঠে প্রথমে বল হারিয়েছিলেন ইউসুফ ফোফানা। বল নিয়ে এরপর প্রায় বিনা বাধায় খাজরি ঢুকে পড়েন ফ্রান্সের বক্সের মধ্যে। দারুণভাবে তিনি বাঁ পায়ের শটে গোলকিপার স্টিভ মাঁদাঁদার পাশ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন।
গোলের ধাক্কায় যেন টনক নড়ে কোচ দেশমের। নড়েচড়ে বসে তিনি অভিজ্ঞদের মাঠে পাঠান। কিলিয়ান এমবাপ্পে, আঁতোয়ান গ্রিজমান, উসমান দেম্বেলে, আঁদ্রিয়া র‍াবিওরা নামার পর কিছুটা গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে ফ্রান্স। আক্রমণের পরিমাণও বাড়ে। তৈরি হতে থাকে গোলের সুযোগও। কিন্তু তিউনিসিয়া তখর ঐতিহাসিক জয়ের খোঁজে মরিয়া। রক্ষণকে শক্ত করে ফরাসি আক্রমণের তোড় সামলাতে থাকে তারা। এমবাপ্পে, গ্রিজমানরা তিউনিসিয়ার গোলে শট নিয়েছেন। কিন্তু গোলমুখ খুলতে পারছিলেন না।

রেফারি যখন ম্যাচের সময়ের সঙ্গে ৯ মিনিট যোগ করলেন, তখন আশান্বিত হয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু কে ভেবেছিল সবার জন্য এমন নাটক অপেক্ষা করে আছে। যোগ করা সময়ের ঠিক শেষ মিনিটে গ্রিজমান গোল করলে উৎসবে মেতেছিল গোটা ফ্রান্স দল। তিউনিসিয়া দলে তখন হতাশার অন্ধকার। ঠিক এই সময় দৃশ্যপটে ভিএআর। মাঠে তখন শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনা! দুই শিবিরে দুই রকমের চাওয়া। শেষ পর্যন্ত গোলটা কী থাকবে? গোলটা কী বাতিল হবে! মনিটরে কয়েকবার গোলের দৃশ্যটি দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসলেন রেফারি। নাহ্! গোলটাই বাতিল অফ সাইডে! রচিত হয়ে যায় তিউনিসিয়ার নতুন ইতিহাস।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *